ক্লাস টেনের ছাত্র জড়িত সেক্স, মাদক এবং অনলাইন প্রতারণার সাথে

সঠিক বিচার হলেই পোষ্ট ডিলেট করে দেওয়া হবে। প্রশাসন এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ছেলেটা ক্লাস টেনে পড়ে, এই বয়সেই মদ খায়, ইয়াবা খায়, বিভিন্ন নেশা করে। সবচেয়ে মারাত্মক হল, মেয়েদের সাথে এই বয়সেই সেক্স করা শেষ, একটা মেয়ের সাথে না একাধিক। প্রেম করে সেক্স না, শুরু থেকেই খেয়ে ছেড়ে দেয়ার প্ল্যান করেই মেয়ে পটানো! ফোনে মেয়েদের নুডসে ভরা, কোন মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে কোন জায়গায় নিয়ে সেক্স করবে বন্ধুদের সাথে এসব নিয়েই দিনভর প্ল্যান আর নেশা তো আছেই! বয়স কত হবে? ১৭ বা ১৮? বা আরো কম। আমার সাথে দেখা হল ঈদের আগের দিন। সে একটা মোবাইল বিক্রি করবে, সে বিক্রেতা, আমি ক্রেতা। কিন্ত মজার বিষয় হল যে মোবাইলটা সে বিক্রি করবে সেটা তার নিজের না, চুরি করে মেরে দেয়া মোবাইল। সব জেনেই আমি গিয়েছিলাম। এবার সেই গল্পটাই বলি.. চট্রগ্রামের এক ছোট ভাই, ক্লাস নাইনে পড়ে, সহজ সরল। বহুদিন কষ্ট করে জমানো টাকা দিয়ে কিনা মোবাইল বাধ্য হয়ে অনলাইনে বিক্রির জন্যে বিজ্ঞাপন দেয়। ছবির এই ছেলেটা, যার নাম নাঈম, বাসা ঢাকার আজিমপুর বা বকশীবাজার, সে মোবাইল কিনার আগ্রহ দেখায়। কিন্ত শর্ত হল, মোবাইল কুরিয়ার করতে হবে আগে। হাতে পেয়ে সে টাকা বিকাশ করবে। সে তার NID কার্ডের ছবি দেয়, এমনভাবে গুছিয়ে কথা বলে যে চট্রগ্রামের ছেলেটা বিশ্বাস করে মোবাইল পাঠিয়ে দেয়।

চরম বোকামি করেছিল, কোন সন্দেহ নাই। নাঈম কুরিয়ার থেকে মোবাইল সংগ্রহ করে কিন্ত বলে যে, সে মোবাইল পায় নাই, তাই টাকাও দিবে না। চট্রগ্রামের ছেলেটা এত কষ্ট করে জমানো টাকা হারিয়ে পাগলের মত প্রায়, জীবনের প্রথম মোবাইল ছিল। সব জানানোর পরে বাসায় সে প্রচন্ড মাইর খায়। ছেলেটা কেদে কেটে সবকিছু বুঝিয়ে বলার পরেও নাঈম বলে, সে মোবাইল পায় নাই! কিন্ত এর ৭ দিন পরে নাঈম আবার মেসেজ দিয়ে বলে, মোবাইল আসলে পাইছে। লক হয়ে গেছে, কোড বললে টাকা পাঠাই দিবে। চট্রগ্রামের ছেলেটা বলে, কোড সেও জানে না। লক কোন দোকান থেকে খুলে নিতে আর সেই টাকা কেটে রেখে বাকি টাকা যাতে পাঠিয়ে দেয়। নাঈম ১ দিন পর বলে, সে মোবাইল রাখবে না, ৫০০ টাকা বিকাশ করলে সে মোবাইল পাঠাই দিবে, যেটা লক খুলতে খরচ হইছে। সে আল্লাহর কসম করে বলে টাকা পাঠাই দিবে। বোকা ছেলেটা এমনিতেই এত টাকা লস খেয়ে বিপর্যস্ত, সে রিস্ক নিয়ে আরো ৫০০ টাকা পাঠায়, তাও যদি মোবাইল পায়! কিন্ত সেই ৫০০ টাকাও নিয়ে নাঈম ছেলেটারে ইচ্ছামত গালি দিয়ে ব্লক করে দেয়। কিছুদিন পর সে এই সেট বিক্রি করার জন্যে ফেসবুকে এড দেয় ফেক আইডি থেকে। আমি জানতে পারি, ঈদের ২ দিন আগে। ওদের মেসেজ গুলা পড়ে খুব রাগ হয়। বিক্রির বিজ্ঞাপন থেকেই সুযোগটা নেই। ক্রেতা সেজে কল করি৷ ফোন অফ, মেসেজ দেই। সে যেই দাম বলে সে দামেই কিনতে রাজি হই। সে বলে ধানমন্ডি যাইতে, একটু পর বলে সাইন্স ল্যাব, আবার বলে আজিমপুর। পরে বলে আজ না, কাল আসেন। এদিকে বাসা থেকে আম্মু ফোনে কথা শুনে বলে ভেজালে যাওয়ার দরকার নাই।

ঈদের আগের দিন বন্ধুরাও কেউ যেতে রাজি না, ঢাকায় অনেকেই নাই। ঈদের পর হলে চোরকে এভাবে ধরার সুযোগ পাবো, কোন গ্যারান্টি নাই। পরের দিন আবার কল দেই। নাঈম আমাকে ধমক দিয়ে বলে, ১ ঘন্টার মধ্যে আসলে আসেন, নাইলে নাই। আমি বাসে উঠতেছি, গ্রামে যাবো। শেষপর্যন্ত আমরা ৪ জন যাই। আমি আগে একা একা হাটি, ওরা আশে পাশে। একেকবার একেক জায়গা বলে ২ ঘন্টা ঘুরানোর পর নাঈম আসে। দেখে তো আমি অবাক, পিচ্চি একটা ছেলে। আমি মোবাইলটা হাতে নিয়ে বলি, কই থেকে কিনছো এটা ? সে বলেঃ বসুন্ধরা সিটি। আমি বলিঃ তুমি তো এটা চট্রগ্রাম থেকে প্রতারণা করে আনছো কিন্ত টাকা দাও নাই। প্রথমে সে স্বীকারই করে না। উল্টা আমার সাথের একজনকে হুমকি দিয়ে বলেঃ নাম কি, কোন এলাকায় থাকো? দেখে নিবো পরে। আমি অবাক হই, এভাবে ধরা পড়ার পরেও তার সাহস দেখে। ক্রমাগত মিথ্যা বলেই যেতে থাকে। শেষে প্রমান সব হাতে নাতে দেখানোর পর স্বীকার করতে বাধ্য হয়। প্রচন্ড বেয়াদপি করার পরেও তার গায়ে একটা টোকাও কাউকে দিতে দেই নাই। অথচ রোযার মাসে, ঈদের আগের দিন সবাই রোযা রাখা অবস্থায় সে এতটা পথ ঘুরাইছে আমাদের। চুরি করা মোবাইলটা একটু চেক করেই চমকে যাই। মোবাইলে মেয়েদের নুডসে ভরা, মদ, গাজা, ইয়াবা, ড্রাগ বিক্রির ছবি। ছোট্ট একটা ছেলে এসব করে, ভাবাই যায় না। মোবাইলে ৪টা ফেক আইডি, সেগুলা দিয়ে সে নিয়মিত মানুষ ঠকানোর কাজ করে যাচ্ছিল। এভাবেই তার নেশার টাকা জোগাড় করে আর মেয়েদের ফাদে ফেলার প্ল্যান করে! ওর বাবা মাকে জানানো অবশ্য কর্তব্য ছিল। তখনো ও মিথ্যা বলছে। বাসার ঠিকানা, নাম কিছুই সত্য বলে নাই। পরে ফোনে বাবা-মার সাথে কথা বলিয়ে দিয়ে, ভাল ভাবে বুঝিয়ে কোন রকম অপমান, মাইর দেয়া ছাড়াই নাঈমকে আমরা ছেড়ে দেই। বাসায় এসে দেখি নাঈমের আব্বুর মিসড কল। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেলাম এই ছেলের আব্বু-আম্মুর সাথে কথা বলেই.. প্রথমে তার বাবা বলে, আমরা নাকি ছুরি ধরে মোবাইল কেড়ে নিছি। সব প্রমাণ সহ বুঝিয়ে বলার পর বলে নাঈমকে জিজ্ঞাসা করে পরে কল দিবো। পরে ফোন করে সব স্বীকার করে। কিন্ত ছেলে এত বড় অপরাধ করার পরেও তার বাবা-মা ছেলের পক্ষে সাফাই গাচ্ছে এখনো। নাঈম সেটের অরিজিনাল চার্জার বাসায় রেখে বলে হারাই ফেলছে, পরে নেয়া ৫০০ টাকা এসবও অস্বীকার করে।

তার বাবা মাও তাল মিলিয়ে বলে, চার্জার হারাই গেছে! আমি দিতেই হবে চাপ দেয়ায় ৫ দিন পরে স্বীকার করে বলে, চার্জার খুজে পাইছে বাসায় কিন্ত বাকি টাকা, চার্জার এসব দিতে তারা রাজি না। তার বাবা ফোন অফ করে রাখে। নাঈমের মাকে যখন সব খুলে বলি, উলটা হুমকি দিয়ে বলে তোমার কত পাওয়ার, কি করবা দেখাও। আমি যখন বলি, এভাবে কেন বলছেন! আপনার ছেলে যা করেছে এটা মারাত্বক অপরাধ। তাকে গাইড দেয়ার দায়িত্ব তো আপনার। উনি বলেঃ নাইম কোন ভুল করেনি, ভুল সব আমার আর ওই ছেলের যে মোবাইল পাঠাইছে। আমি সুন্দর করে বুঝিয়ে বললামঃ আপনি কি জানেন, নাঈম মদ খায়, মেয়েদের সাথে ঘুরে, ক্লাস ফাকি দেয় নিয়মিত, স্যার সেজে বন্ধুদের দিয়ে আপনার মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে বেতনের টাকা বলে সে টাকা দিয়ে নেশা করে, ডেটিং এ যায় ?? তার মা বলেঃ আমার ছেলে যা ইচ্ছা করবে, সেটা তোমাকে জিজ্ঞাসা করা লাগবে? আমি উনার এমন আচরণে অবাক। আমাকে আরো বলে, চুরি করা চার্জার, প্রাপ্য টাকা নিতে হলে তাদের এলাকায় গিয়ে আনতে হবে নইলে দিবে না। প্রচন্ড খারাপ ব্যবহার করে। এরপর আমি তাদের এলাকায় গেলে আর কল ধরে না, পরে বলে, আজ না। কাল আসো। কাল বলে, পড়শু আসো, সকালে না বিকালে আসো। অথচ জিনিসগুলা তার ছেলে চুরি করেছে। সেই চুরির জিনিস তার বাসায়, সেটা পৌছে দেয়ার দায়িত্ব কি তাদের না? আমার আব্বু অসুস্থ। আমিও বিজি। যখন বলবেন তখনি আসা সম্ভব না, আমি এটা বলায় তার মায়ের উত্তর ছিল তাহলে চার্জার নেয়া লাগবে না! এবং আসলেই উনি পরে আর ফোনই দেয় নাই, ধরেও নাই। শেষপর্যন্ত আমাকে গিয়ে ২ ঘন্টা জ্যামে বসে থেকে চার্জার আনতে হইছে, তাও প্রাপ্য পুরা টাকাটা দেয় নাই। এই হচ্ছে এমন ছেলেদের অভিভাবকদের অবস্থা। তাদের ছেলেরা যে সন্ত্রাসী হবে বা ধর্ষক হবে, তাতে অবাক হবার কি কিছু আছে! আমাদের নেক্সট জেনারেশন আসলে কিভাবে বড় হচ্ছে! কি করছে, কোথায় যাচ্ছে, খেয়াল রাখছি কি আমরা? জায়গায় জায়গায় কিশোর গ্যাং, মদ, নেশা, ইয়াবা, ড্রাগস, সীমাহীন প্রেম, নুডস, জাস্ট ফ্রেন্ডস সংস্কৃতি কিশোরদের গ্রাস করে আছে। না হলে এই ছোট ছেলেটা কিভাবে কোন মেয়েদের খেয়ে ছেড়ে দিবে এসব প্ল্যান কিভাবে করে ?? এরাই কি ভবিষ্যৎ ধর্ষক না! এই ছোট বয়সেই এদের হাতে এত ধরণের নেশাদ্রব্য কিভাবে আসে! এই ছেলে এখনো ফেক আইডি গুলা চালাচ্ছে, ওই আইডি গুলা দিয়ে সারাদিন মোবাইলের এড আর মানুষ ঠকানোর কাজ চলে। তার বাবা-মার যে অবস্থা তাতে ওর সহজে পরিবর্তন হবার কোন চান্স নাই বরং ছেলে আমাকে এই হুমকিও দিছিল যে, তার বাবা মায়ের স্ট্যাটাস আর পাওয়ার সম্পর্কে নামি আমি জানি না, জানলে এসব করতাম না!! আমি তার মেসেঞ্জার চ্যাট থেকে অনেক লোকের সাথেই এভাবে ঠকিয়ে মোবাইল মেরে দেয়ার মেসেজ দেখেছি, পরে সে পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে। তদন্ত করলে আরো অনেক কিছুই বের হবে। হয়তো ছেলেটাকেও অনেকে চিনবে। আমাদের স্বার্থেই, দেশের স্বার্থেই এই সমস্যার মূলে গিয়ে সমাধান করা জরুরী। সব প্রমাণ থাকার পরেও কোন নুডস বা কোন মেয়ের ছবি দিলাম না। কিন্ত এত কিছু লিখার কারণ হল এদের নিয়েই আমাদের সমাজ, এরাই ভবিষ্যৎ So These Things Really Need Your Attention. আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের নয় কী ? 

@Muntasir Mahmud – ভাই এর টাইমলাইন থেকে নেওয়া, তার পোষ্ট বার বার রিপোর্ট করে ডিলিট করিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তার আইডিটাও রিপোর্ট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

এমনকি আমি পোষ্টটা শেয়ার করেছিলাম কারণ সবাই চাচ্ছিলো এর বিচারটা হোক, তারপর আমার পোষ্টও রিপোর্ট করে ডিলেট করিয়ে দেওয়া হয়। তাই এখানে পোষ্টটা রেখে দিলাম, এখন পারলে ডিলেট করে দেখা। 

Dhaka News Time