বিনা খরচে প্রশিক্ষণ পাবে ১৭ হাজার তরুন-তরুনি, মিলবে ভাতা

অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রগ্রাম (সেইপ) প্রকল্পের আওতায় কারিগরি ১০ বিষয়ে বিনা খরচে প্রশিক্ষণ দেবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি (বিএসিআই)। প্রশিক্ষণ শেষে দেওয়া হবে ভাতা ও চাকরি। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ফরহাদ হোসেন

২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে এ প্রকল্পে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত ১২ হাজার ৭০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত ১৭ হাজার ২২৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিভিন্ন সময়ে দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিজ্ঞাপন দিয়ে আবেদনপত্র চাওয়া হয়।

বিষয় ও যোগ্যতা
কর্মী লেভেলে তিন মাস মেয়াদি সাতটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ট্রেডগুলো হলো—ম্যাসনারি, প্লাম্বিং, ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন, টাইলস অ্যান্ড মার্বেল ফিটিং, স্টিল বাইন্ডিং অ্যান্ড ফ্যাব্রিকেশন, পেইন্টিং ও অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাব্রিকেশন। অংশগ্রহণের ন্যূনতম যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি পাস। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। অগ্রাধিকার দেওয়া হবে একই শিল্পে কর্মরত অদক্ষ শ্রমিক, আদিবাসী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বেকারদের। আপ স্কিল লেভেলে তিন বিষয়ে দুই মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিষয়গুলো হলো—প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট ও কোয়ালিটি কন্ট্রোল। যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে স্নাতক, ডিপ্লোমা বা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং। নির্মাণশিল্পে মধ্যম পর্যায়ের কর্মী হিসেবে কর্মরত এবং যাদের বয়স ৫০ বছরের মধ্যে তারাই এ তিন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। সেপ প্রজেক্টের অন্য কোনো প্রশিক্ষণে ভর্তি হলে বা আগে প্রশিক্ষণ নিলে আবেদন করা যাবে না।

আরো পড়ুন  ঢাবির টি-শার্টে এবার ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ বানানই ভুল!

আবেদন যেভাবে
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) তালিকাভুক্ত ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ১৫টি প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে আবেদন ফরম। এসব প্রতিষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যাবে। যে ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী, সেই ট্রেড উল্লেখ করে আবেদন পূরণ করে জমা দিতে হবে। আপ স্কিল লেভেলের প্রশিক্ষণের আবেদনপত্র স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (এসডিআই) ৬৯২/বি বড় মগবাজার, ঢাকা ঠিকানায় পাওয়া যাবে।

প্রার্থী নির্বাচন
তিন মাস পর পর বছরে মোট চারবার ভর্তি নেওয়া হয়। যোগ্যদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে ডাকা হয় ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার জন্য। মৌখিক পরীক্ষায় শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা দেখা হয়। সাধারণ জ্ঞান, উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে। জানতে চাওয়া হয়, কেন প্রশিক্ষণ নিতে চান। থিওরিটিক্যাল ও প্রাকটিক্যাল এই দুই পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ দেবেন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকরা।

আরো পড়ুন  জার্মানিতে চালু হলো পুতুলের পতিতালয়

মিলবে ভাতা
কোর্স শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মূল্যায়নের জন্য নেওয়া হবে পরীক্ষা। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মিলবে সনদ। এ ছাড়া প্রতিদিনের যাতায়াত খরচ ও নাশতা বাবদ দৈনিক ১৫০ টাকা হারে ভাতা দেওয়া হয়। ৮০ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত হলেই মিলবে এ ভাতা। প্রশিক্ষণ শেষে যাতায়াতভাতার টাকা ইউক্যাশ সার্ভিসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীর হিসাবে জমা করা হবে।

আছে চাকরির সুযোগ
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) কর্মকর্তারা জানান, সেইপ প্রকল্পের নিয়ম অনুসারে ৮০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীকে নির্মাণশিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে।

নির্মাণ খাতে সারা দেশে কাজের সুযোগ রয়েছে। শুধু দেশে নয়, দক্ষদের কাজের সুযোগ আছে বিদেশেও।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Dhaka News Time
Register New Account
Reset Password