বিজয় দিবসে শিক্ষকের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী যৌন নিপীড়নের স্বীকার

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ক শিক্ষক প্লাবন চন্দ্র সাহার সেদিনের সেই ভয়ংকর যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রকাশ হতে শুরু করেছে। বেরিয়ে আসছে একের পর এক তথ্য। প্লাবন সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হওয়ার সুবাদে ছাত্রীকে ফাঁদে ফেলে যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ছাত্রীকে ফাঁদে ফেলার কৌশল দেখে হতবাক হয়েছেন খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেলের সদস্যরাও। এনিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফাঁদে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। শুধু তাই নয় ওই শিক্ষক ছাত্রীকে বাইরে থেকে তালা মেরে গভীর রাতে ফ্ল্যাটে ফেরেন। রাতে ফ্ল্যাটে ফিরে ওই শিক্ষক ছাত্রীকে জোরপূর্বক যৌন হয়রানি করেন। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেল এমনকি শিক্ষকরা। এনিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এদিকে ছাত্রীকে ফ্ল্যাটে আটকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে যৌন নিপীড়ক ওই শিক্ষকের চাকরি বাঁচাতে শাবি শিক্ষকদের একাংশ তৎপড়তা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে অদ্ভুত ঘটনায় ভিকটিম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী অনেকটা ট্রমা সিচুয়েশনে রয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, শাবির অর্থনীতি বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর প্লাবন চন্দ্র সাহা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত এক ছাত্রীকে কাজ আছে বলে তার ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হওয়ায় ওই ছাত্রী তার ফ্ল্যাটে যান। এসময় কৌশলে ওই শিক্ষক ক্যাম্পাসে কাজ আছে বলে ওই ছাত্রীকে তার ফ্ল্যাটে বাইরে থেকে তালা মেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসেন। ওই ছাত্রী যখন বুঝতে পারেন তিনি শিক্ষকের ফাঁদে পড়েছেন ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কারো সঙ্গে যোগাযোগও করার সুযোগ ছিল না তার। এদিকে শিক্ষক প্লাবন সাহা রাত ১১টার পরে তার ফ্ল্যাটে ফিরে তালা খুলে ভেতরে ঢুকেন। পরে ওই ছাত্রীকে জোর করে যৌন হয়রানি করেন। একারণে ওই ছাত্রী আর রাতে হলে ফিরতে পারেননি। বিষয়টি যাতে প্রকাশ করা না হয় এনিয়ে ওই ছাত্রীকে হুমকি-ধমকিও দেয়া হয়। ভয়ে ওই ছাত্রী মুখ খুলেননি।

আরো পড়ুন  শতভাগ মেধা থেকে নিয়োগ পাবে ৪০তম বিসিএসে

সম্প্রতি ওই ছাত্রী সহপাঠীদের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করলে তারা তাকে অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শে ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর ওই শিক্ষক প্লাবন সাহার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট প্লাবন সাহাকে সহকারি প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেল শিক্ষকের অপকর্মের বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্তে শিক্ষকের যৌন নিপীড়নের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। শনিবার সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

যৌন নিপীড়ন সেলের প্রধান প্রফেসর ড. নাজিয়া চৌধুরী ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, এ ঘটনায় ওই ছাত্রী ট্রমা সিচুয়েশনে রয়েছে। তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অবজার্ব করেছি। ওই ছাত্রীকে শিক্ষক ফাঁদে ফেলেছেন বলেও উল্লেখ করেন ড. নাজিয়া।

যৌন নিপীড়ন সেলের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ওই ছাত্রীকে সতর্কতার সুপারিশ করা হলেও তাকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার নিয়ে ক্যাম্পাসলাইভের কাছে অনেকটা হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই প্রফেসর। ড. নাজিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন কাণ্ডে যৌন নিপীড়নের বিষয়ে ছাত্রীদের মাঝে ভীতির সঞ্চার হলো। এঘটনার মধ্য দিয়ে আর কোন ছাত্রী তাদের যৌন নিপীড়নের বিচার দাবির সাহস পাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন কাণ্ডে ছাত্রী নিপীড়নের বিষয়গুলো আড়ালে থেকে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রফেসর ড. নাজিয়া চৌধুরী রোববার ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ওই ছাত্রীকে প্রতারণার মাধ্যমে ফাঁদে ফেলেছে শিক্ষক। তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় ওই ছাত্রীর আর কিছুই করার ছিল না। আমরা বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছি। সেই অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে রিপোর্ট দিয়েছি। ওই রিপোর্টে শিক্ষককে নৈতিক স্খলনের দায়ে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করা হয়েছে। আর ছাত্রীকে সতর্কতা দেয়ার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে আশ্চর্যজনকভাবে ওই ছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটা কোনভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। যৌন নিপীড়নের বিচার চেয়ে কোন ছাত্রী যদি এভাবে শাস্তি পাওয়ার নজির নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরো পড়ুন  এইচ এস সি পরীক্ষার ফলাফল ২০১৮ প্রকাশ, ফলাফল দেখুন এখানে

ড. নাজিয়া চৌধুরী আরও বলেন, ওই ছাত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সে বর্তমানে ট্রমা সিচুয়েশনে রয়েছে। তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ অবস্থায় ওই ছাত্রী যদি কোন অঘটন ঘটায় তাহলে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ি থাকবে।

এবিষয়ে ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জানা গেছে, যৌন নিপীড়ক শিক্ষক প্লাবন সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হওয়ার সুবাদে ছাত্রীকে ফাঁদে ফেলেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ছাত্রীকে ফাঁদে ফেলার কৌশল দেখে হতবাক হয়েছেন খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেলের সদস্যরাও। ফাঁদে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। শুধু তাই নয় ওই শিক্ষক ছাত্রীকে বাইরে থেকে তালা মেরে গভীর রাতে ফ্ল্যাটে ফেরেন। রাতে ফ্ল্যাটে ফিরে ওই শিক্ষক ছাত্রীকে জোরপূর্বক যৌন হয়রানি করেন। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেল এমনকি শিক্ষকরা। এনিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এদিকে ছাত্রীকে ফ্ল্যাটে আটকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে যৌন নিপীড়ক ওই শিক্ষকের চাকরি বাঁচাতে শাবি শিক্ষকদের একাংশ তৎপড়তা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে অদ্ভুত ঘটনায় ভিকটিম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী অনেকটা ট্রমা সিচুয়েশনে রয়েছে বলে জানা গেছে।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Dhaka News Time
Register New Account
Reset Password