৫৬% কোটা ঠিক রেখে আজ ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি

এ খবরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাকমীের্দর মধ্যে ফের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের দাবি না মেনে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে আবারও মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা ঠিক রেখে দুই হাজারেরও বেশি ক্যাডার নিয়োগ দিতে আজ ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে যাচ্ছে সরকারি কমর্কমিশন (পিএসসি)। এ খবরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাকমীের্দর মধ্যে ফের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি না মেনে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে আবারও মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এ অবস্থায় নিবার্চনের ঠিক আগ মুহ‚তের্ কোটা নিয়ে আরেকবার পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পিএসসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কমর্কতার্ জানান, কয়েক মাস আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৪০তম বিসিএসের জন্য জনবলের চাহিদাপত্র পাঠানো হয় পিএসসিতে। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে দুই হাজারেরও বেশি পদে নিয়োগের চাহিদা পাঠানো হয়।

Join ৪০তম বিসিএসে পরীক্ষার প্রস্তুতি

এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার পদে ২২৮টি, পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার ৭০টি, পররাষ্ট্র ক্যাডারে সহকারী সচিব ২৫টি, আনসার ক্যাডারে ১২, মৎস্য ক্যাডারে ৩৪৪, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারে সহকারী মহাহিসাবরক্ষক ১৫ এবং শিক্ষা ক্যাডারে বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাষক পদে প্রায় ১ হাজার ক্যাডার নিয়োগের চাহিদার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সাজর্ন, সহকারী ডেন্টাল সাজর্ন, কৃষি ক্যাডারে কৃষি সম্প্রসারণ কমর্কতার্, সহকারী বন সংরক্ষক, ভেটেরিনারি সাজর্ন, সহকারী প্রকৌশলী, কর ক্যাডারে সহকারী কর কমিশনার, তথ্য ক্যাডার, রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারে নিবার্হী প্রকৌশলী ও সমমানের পদ, ইকোনমিক ক্যাডারে সহকারী প্রধান, রেলওয়ে পরিবহন ও ডাক ক্যাডারে সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল পদে প্রায় ১ হাজার কমর্কতার্ নিয়োগের জন্য চাহিদা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘মঙ্গলবার ৪০তম বিসিএসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই জানতে পারবেন।’ কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাথীর্রা যে আন্দোলন করে আসছে তার রেশ এখনো কাটেনি। বাস্তবায়িত হয়নি আন্দোলনকারীদের দাবিও। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়নে গেজেট প্রকাশের দাবিতে এখন আন্দোলন করছেন ক্ষুব্ধ এসব শিক্ষাথীর্। এরই মধ্যে ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি কোটা সংস্কার ছাড়াই দেয়া হবে এমন খবর শিক্ষাথীের্দর উত্তেজিত করে তুলেছে। এরই মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ফেসবুক গ্রæপে বিষয়টি নিয়ে বেশ উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি না করে ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে আন্দোলনে নামার ঘোষণাও এখান থেকে এরই মধ্যে দেয়া হয়েছে। কেউ কেউ পোস্ট দিয়ে আবারও সবাইকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য আহŸান জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ প্রজ্ঞাপন জারি ছাড়া যাতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতে না পারে সে লক্ষ্যে আগেভাগেই আন্দোলনের কথাও বলছেন।

আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা তাদের দাবি না মেনে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তা মানবেন না। এ অবস্থায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে কী হবে তা নিয়ে সংশয়ও বাড়ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহŸায়ক বনি আমীন যায়যায়দিনকে বলেন, ‘আমরা চাই সরকার আমাদের ৫ দফার ভিত্তিতে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। দেশের সব চাকরিপ্রত্যাশীও সেটাই চায়। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ মূলত চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষাথীের্দরই প্লাটফমর্। সাধারণ শিক্ষাথীর্রা যেটা চাইবে আমরাও সে অনুসারে আমাদের কমর্সূচি চ‚ড়ান্ত করব। ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি যদি আমাদের দাবি না মেনে প্রকাশ করা হয় তবে আমরাও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন কমর্সূচিতে নামতে বাধ্য হব।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের শীষর্ মহল চাইলে এটা এত সময় লাগার কথা নয়। সরকারের উচিত, এটাকে আর ঝুলিয়ে না রেখে এখনই সমাধানের উদ্যোগ নেয়া। আমরা মনে করি, নীতিনিধার্রকদের গাফিলতি ও সদিচ্ছার অভাবের কারণেই বিষয়টি ঝুলে আছে। আমরা আশা করব, তারা জাতীয় নিবার্চনের আগেই আমাদের দাবি মেনে নিয়ে ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। প্রয়োজন হলে আমরা এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আবারও আলোচনা করতে চাই। আমরা সংঘাত সহিংসতা চাই না।

সরকারকেও মনে রাখতে হবে দেশের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দঁাড়িয়ে আমাদের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে আমাদের ওপর হামলা মামলা না দিয়ে তাড়াতাড়ি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিফলন দেখতে চাই।’ উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরু থেকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি চাকরিতে চলমান কোটা প্রথার সংস্কার চেয়ে আন্দোলন করছে। গত এপ্রিলে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের দাবি মেনে নিয়ে কোটা প্রথাকেই বাতিলের ঘোষণা দেন। কিন্তু এরপরও এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরি হওয়ায় আবারও শিক্ষাথীর্রা রাস্তায় নামে। সে সময়ে সরকার সমথর্কদের হামলায় অনেক আন্দোলনকারী আহত হলে দেশজুড়ে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। যা নিয়ে সরকারও বেশ চাপে পড়ে। গত প্রায় মাসখানেক বিষয়টি নিয়ে এ আন্দোলনের নেতারা চুপ রয়েছেন। কিন্তু ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে তারা আবারও রাস্তায় নামার যে কথা বলছেন তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে আবারও সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Dhaka News Time
Register New Account
Reset Password