ভাবছি রোবটিক্স টা ছেড়ে দিব, আমার জন্মটাই একটা ভুল দেশে

ভাবছি রোবটিক্স টা ছেড়ে দিব।
.

নিজের চেষ্টায় এই পর্যন্ত আসতে পেরেছিলাম । পরবর্তীতে রোবটটার আর কোন ডেভেলপমেন্ট করিনি।
.
সরকারি সহায়তা, পূর্ব পশ্চিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহয়তা কোনটাই পেলাম না এমন কি স্পন্সর কোম্পানিতেও আবেদন করলাম কোথায়ও কোন ফান্ড পেলাম না।
.

গভঃমেন্ট ফান্ড এর আবেদনের পর যখন ভাইবা বোর্ড এ আমাকে বলা হল :
.

“আচ্ছা আপনার রোবটটা বানাতে কি BUET এর কেউ সাহায্য করেছিলো ??”
.

এরপরই আসলে বুঝে গেছিলাম, আমার জন্মটাই একটা ভুল দেশে ।
.

পূর্ব পশ্চিম বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু এই ব্যাপারে একটা সাপোর্ট দিতে পারতো। কিন্তু ভাবি নাই, এখানে ক্রিয়েটিভ কোন কাজের জন্য বিন্দু মাত্র সাপোর্ট দেয়া হয় না । “টাকা দিবে, শিক্ষা নিবে” । এটাই নীতি ।
.

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি “Ribo” রোবটটার ডেভেলপার ছিল ১১ জন ।
.

আর সেখানে আমি একা চেষ্টা করেই তাঁদের তৈরি রোবটটা থেকে কিছু
advance output দিতে সক্ষম হয়েছিলাম। এমনকি Ribo থেকে আমার FARBOT এর Response ছিল বেশি দ্রুত এবং নির্ভুল । Ribo এর উন্নয়নের জন্য তারা পরবর্তী ১০ লক্ষ টাকার সরকারি সহযোগিতা পেয়েছিল । এছাড়াও
তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ভালো একটা ফান্ড পেয়েছিল ।
.

আরো পড়ুন  কারাগারে ১৭০০ টাকা কেজি গরু ও ৬০০ টাকায় মুরগির মাংস খায় তারা!

আর FARBOT এর ফান্ড তো দুরের কথা, যেখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন authority ও আসে নাই ,এই ৬ ফুট উচ্চতার রোবটটা সম্পর্কে কিঞ্ছিত খোঁজ নিতে । উল্টা আমার নাম ব্যবহার না করেই তারা পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলো ।

.

কিছু লোক আমার সামনেই এভাবেও বলেছিল “পূর্ব পশ্চিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আসলে রোবট শব্দটাই কেমন বেমানান । ”
নিজের ভার্সিটি সম্পর্কে এমন কথা শোনার পর খারাপ লাগলেও পরবর্তীতে বুঝতে পারলাম কথাটা ঠিকই ছিল ।
.

রোবট টাতে যতটুকু আউটপুট দিতে পেরেছিলাম একজন Engineer হিসাবে বলতে পারি হয়তো কোন Engineering স্টুডেন্টরা তাঁদের সর্বোচ্চ কাজ হিসাবে এমন কিছুই কল্পনা করে থাকে । যেটা আমি Engineering এ ভর্তি পর নিজের কাছে থেকে ও আশা করেছিলাম না ।

.
*************************************************
যাইহোক , স্ট্যাটাসটা দিলাম একজন ব্যর্থ Engineer হিসাবে না , একটা ব্যর্থ দেশের নাগরিক হিসাবে ।
*************************************************
.

বিদেশে সামান্য একটা লাইন ফলোয়ার রোবট বানালেও তাঁদের দেশের মিডিয়া গুলো হুমড়ি খেয়ে পরে সেটা প্রচার-প্রচারণা করতে।

কিংবা “সোফিয়া” দের মত রোবট গুলো এনে কোটি কোটি টাকা
খরচ করা হবে, আর এদেশের সাংবাদিকেরা নিজেরাই অন্যদেশের
প্রোজেক্ট গুলো প্রচার প্রচারনার দায়িক্ত নিয়ে নিবে কিন্তু আমরা কাজের জন্য সামান্য কোন সরকারি সহয়তা পাবো না ।
.

আরো পড়ুন  কীভাবে বাংলাদেশ থেকে কানাডায় স্টুডেন্ট ভিসা পাবেন

ভাই, আমার মত তরুনদের কাজ বড় বড় মিডিয়াতে আসবে না,
.

এই কথা গুলা হয়তো এ দেশের সরকার বা বিশ্ববিদ্যালয় authority পর্যন্ত পৌঁছাবে না ।
.

কিছু কষ্ট নিয়েই বলি “এদেশে উচ্চ শিক্ষিত মেধাবি হবার থেকে অষ্টম শ্রেণী পাশ করে রাজনীতিবিদ হওয়া ভালো, তাতে খুব তাড়াতাড়ি টাকার পাহাড় গড়া যায় । ”

.

((((((আমি পার্সোনালি ধন্যবাদ জানাই আমাদের East West University এর শ্রদ্ধেয় CSE dept এর Chairperson স্যার Ahmed wasif Reza Sir এবং Surajit Das Barman Sir কে , যারা আমার একটা ফান্ড এর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন । ))))))
.

GOOD BYE Robotics
.

( যেদিন নিজের প্রতিষ্ঠিত একটা ব্যক্তিগত Research Lab থাকবে সেদিন হয়তো ফিরে আসবো )

এভাবেই নিজের ক্ষোভটা তুলে ধরেছেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেধাবি শিক্ষার্থী এ এস ফারদিন আহমেদ। এভাবেই দিনের পর দিন মেধাবিরা হারিয়ে যাচ্ছে। দেশ হয়ে পরছে মেধাবি শূন্য।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Dhaka News Time