বিশ্বখ্যাত জাপানি লেখকের ৩টি জনপ্রিয় বইয়ের অনুবাদ প্রকাশ পেয়েছে এবারের অমর একুশে বইমেলায়

গত কয়েক বছর ধরে সাহিত্যে নোবেল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত যে কয়েকটা লেখকের নাম শোনা যাচ্ছে তার মধ্যে জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামির নাম সব থেকে এগিয়ে আছে। আশির দশক থেকে লেখালেখি শুরু করলেও নব্বইয়ের দশক থেকে এখন অবধি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে আছেন প্রখ্যাত এই জাপানি লেখক। তাঁর প্রায় সব কয়টি বই জাপান এবং বিশ্বজুড়ে বেস্ট সেলারের মর্যাদা পেয়েছে। পঞ্চাশটিরও অধিক ভাষায় তাঁর লেখা অনূদিত হয়েছে। শুধু কি তাই? পেয়েছেন অসংখ্য পুরষ্কার, যার মধ্যে – ওয়ার্ল্ড ফ্যান্টাসি অ্যাওয়ার্ড, জেরুজালেম অ্যাওয়ার্ড, ফ্রাঙ্ক ও কনর শর্ট স্টোরি অ্যাওয়ার্ড, ফ্রানৎস কাফকা অ্যাওয়ার্ড ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য ও বিশ্বনন্দিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে – নরওয়েজিয়ান উড, কাফকা অন দ্য শোর, ওয়ান কিউ এইট ফোর, অ্যা ওয়াইল্ড শিপ চেইজ, আফটার ডার্ক ইত্যাসি। ২০১৫ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের একজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এই বিশ্বখ্যাত জাপানি লেখকের তিনটি জনপ্রিয় বইয়ের অনুবাদ প্রকাশ পেয়েছে ২০১৯ অমর একুশে বইমেলায় জনপ্রিয় অবসর প্রকাশনা সংস্থা থেকে।

স্পুটনিক সুইটহার্ট- হারুকি মুরাকামি
অনুবাদঃ কৌশিক জামান

কলেজ টলেজ সব বাদ দিয়ে সুমিরে একজন উপন্যাসিক হওয়ার চেষ্টায় আছে। নাওয়া খাওয়ার খেয়াল নেই। সারাদিন বই পড়ে আর লেখালেখি করে। দুনিয়ার সাথে ওর একমাত্র যোগাযোগ হল শুধু মাত্র মাঝ রাতে একমাত্র বন্ধুকে ফোন দিয়ে উঠিয়ে অসংখ্য কথা বলা। এমন সময় সে প্রেমে পড়ল তার চেয়ে বয়সে অনেক বড় একজন বিবাহিতা নারীর। অমনি তার জীবনটা বদলে গেল। প্রেমিকাকে চাইলে লেখালেখি হয় না, লেখালেখি চাইলে প্রেম বাদ দিতে হবে। সুমিরে শেষ পর্যন্ত কোনটা বেছে নিল? ওর সিদ্ধান্ত কি শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়াল?

আরো পড়ুন  ৫ম শ্রেণী পাশের চাকরির জন্য কয়েক হাজার পিএইচডি ধারীর আবেদন

সম্পর্কের জটিলতা, পরাবাস্তবতা ও অসীম বিষণ্ণতায় ভরপুর আরেকটি মুরাকামিয় উপন্যাস।

কালারলেস সুকুরি তাযাকি অ্যান্ড হিজ ইয়ার্স অফ পিলগ্রিমেজ – হারুকি মুরাকামি

অনুবাদঃ সালমান হক

হাইস্কুলে থাকতে সুকুরু তাযাকির বন্ধু সংখ্যা ছিল চার। হাতের পাঁচ আঙুল যেভাবে সংঘবদ্ধ থাকে, ঠিক সেভাবে সবসময় একসাথে থাকতো তারা। মজার ব্যাপার হচ্ছে সুকুরু বাদে অন্য চারজনেরই নামের সাথে কোন না কোন বর্ণ যুক্ত। অর্থাৎ তাদের নামের অর্থ বের করলে কোন না কোন রঙের নাম আসবেই। লাল,নীল, সাদা আর কালো। পাঁচজনের দলটায় সুকুরুর নামেই কোন রঙ নেই, বর্ণহীন।

একদিন সুকুরুর চার বন্ধু ঠিক করলো যে তার সাথে আর মিশবে না তারা। কখনো কথা বলবে না, দেখাও করবে না। সেদিন থেকে বর্ণহীন হয়ে গেলো সুকুরুর জীবন, ঘোর অমানিশার নাগপাশ আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেললো তাকে।

কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না। চারজনকে ছাড়াই মানিয়ে নেয়া শিখলো সে। একসময় প্রণয় হলো সারার সাথে। কিন্তু সেই প্রণয় আরো গভীর রূপ নেয়ার আগে সারা তাকে উদ্বুদ্ধ করলো সত্যটা জানতে। এমন কি হয়েছিল যে তাকে এভাবে প্রত্যাখান করা হলো? সত্যটা জানতে হবে সুকুরুকে।

আফটার দ্যা কোয়েক – হারুকি মুরাকামি

অনুবাদঃ ওয়াজেদুর রহমান ওয়াজেদ

এই বইতে হারুকি মুরাকামির ছয়টি গল্প সন্নিবেশিত হয়েছে ১৯৯৫ সালে কোবেতে সর্বনাশা ভূমিকম্প আর সে সময়টার স্মৃতিচারণায় যখন জাপান তার দৈনন্দিন অস্তিত্বের ভঙ্গুরতা সম্পর্কে ভয়ঙ্কর রকমের সচেতন ছিল। কিন্তু মুরাকামির চরিত্রগুলোকে যেসব বিপর্যয়সমূহ দগ্ধ করেছিল, সেগুলো আরো গভীর এবং আরো রহস্যময়, আর এমন একটা জায়গা থেকে উদ্ভূত হয়েছে যেখানটায় মানুষের সাক্ষাৎ হয় অমানুষের সাথে। 
ইলেকট্রনিক্স দোকানের এক সেলসম্যান যে কিনা আচমকাই পরিত্যাগ হয়েছে তার স্ত্রী দ্বারা একটা বিভ্রান্তিকর প্যাকেট ডেলিভারির কাজে রাজি হয়ে যায়-এবং পুরস্কৃত হয় তার প্রকৃত সত্ত্বার আবছা আভাসে। 
একজন নিঃস্ব শিল্পী এবং একজন অন্তঃসারশূন্য তরুণী আগুনের উপস্থিতিতে নিজেদের ভেতরের নিঃসঙ্গতা আর একাকীত্বকে খুঁজে ফিরে নিজের কাছ থেকে বাঁচতে। 
একটা ছেলে যে নিজেকে ঈশ্বরের সন্তান হিসেবে বেড়ে উঠতে দেখেছে একজন অপরিচিত লোকের পিছু নেয় যিনি তার মানব পিতা হতেও পারেন আবার নাও হতে পারেন। 
একজন প্যাথোলজিস্ট যে কিনা তেত্রিশ বছর যাবত এক লোকের মৃত্যু কামনায় ভূমিকম্পের প্রার্থনা করে; অন্যদিকে তার গাইড কাম ড্রাইভার নিমিত যে কিনা তেত্রিশ বছর ধরে নিজের মনিবের ভালোবাসায় বেঁচে আছে। 
নরম-স্বভাববিশিষ্ট একজন কালেকশন এজেন্টের সাক্ষাৎ হয় দৈত্যাকৃতির কথাবলা ব্যাঙের সাথে যে টোকিওকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্যে তার সাহায্য চায়। 
জুনপেই একজন গল্প লেখক। ভালোবাসত সায়োকোকে কিন্তু বলতে পারেনি কখনো। বন্ধু তাকাতসুকি, সায়োকো এবং তাদের সন্তান সালাকে নিয়েই ব্যস্ত জীবন তার। তাকাতসুকি সায়োকোকে ছেঁড়ে দেয় কিন্তু জুনপেইকে রেখে যায়।

আরো পড়ুন  বছরের দীর্ঘতম রাত আজ, আগামীকাল ক্ষুদ্রতম দিন

অমর একুশে বইমেলার মূল প্রাঙ্গণের ৫ নাম্বার প্যাভিলিয়ন হচ্ছে অবসর প্রকাশনা সংস্থার। এখানেই পাওয়া যাবে এই অনুবাদিত তিনটি বই। অবসর প্রকাশনীর প্রকাশক এবং অবসরের বিক্রেতাগণ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই বইগুলো বেশ পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বইগুলো এবার তাদের প্রকাশনীর বেস্ট সেলারের তালিকায় আছে। অমর একুশে বইমেলা ২০১৯ এর পর্দা উঠবে এই সপ্তাহেই। তাই, লেখকদেরও এসময় মেলাতেই প্রকাশনীর আশেপাশেই পাওয়া যাবে। অটোগ্রাফের সাথে সাথে ফটোগ্রাফও নিতে পারবেন পাঠকেরা। তবে মেলা শেষেও এই বইগুলো অনলাইনে রকমারি, বইবাজার.কম সহ ফেসবুক পেইজ বুকস্ট্রিট বা বিবিধ থেকেও সংগ্রহ করা যাবে।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Dhaka News Time