‘দিনে কাজ করি, রাইতে পড়ি, পইড়া পুলিশ অইতে চাই’

রবিউল আওয়াল। বয়স ১০ বছর। পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। পাশাপাশি একটি চায়ের দোকানে কাজ করে সে। মা ও বোনের সঙ্গে রাজধানীর একটি বস্তিতে থাকে রবিউল। সেখানে কখনো বৃষ্টি ভেজে, আবার ঘামে গরমে। ঘরে নেই বিদ্যুৎ, নেই খাবার পানি। বাবা বেঁচে থাকলেও এক বছর হলো আরেকটি বিয়ে করে চলে গেছেন তিনি। বড় বোনের (১৪) বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু তিন মাসের বেশি টিকেনি তার সংসারটিও। ভাঙা-গড়া আর দরিদ্রতা নিয়েই তার সংসার। এরই মধ্যেই সে স্বপ্ন দেখে বেঁচে থাকার। হতে চায় বড়, মানুষের মতো মানুষ। সেই প্রত্যাশা নিয়েই জীবন যুদ্ধে নেমেছে রবিউল। এসব নিয়েই কথা হয় তার সঙ্গে-

# : তোমার গ্রামের বাড়ি কোথায়?

## : মাদারীপুর

# : ঢাকায় কোথায় থাকো?

## : সেগুনবাগিচার মাজার বস্তিতে

# : তুমি কী করো?

## : দিনে কাম (কাজ) করি, রাইতে পড়ি

আরো পড়ুন  সফল হওয়ার ৭ উপায়

# : তুমি কার সঙ্গে থাকো?

## : মা ও বড় বোনের লগে

# : বাবা?

## : নাই, ভাইগ্গা গেছে

# : ভাইগ্গা গেছে মানে?## : আরেকটা বিয়া কইরা আমাগো ছাইড়া চইল্লা গেছে।

# : তোমার বাবার নাম কী?

## : সিরাজ মাতবর, রিকশা চালাইতো

# : তোমার মা কী করেন?

## : মাইনসের বাসায় কাম (কাজ) করে

# : আর বোন?## : হেও মার লগে কাম (কাজ) করে

# : তুমি কোথায় কাজ করো?

## : চায়ের দোকানে

# : কত টাকা বেতন পাও?

## : কোনো টেকা দেয় না, শুধু তিন বেলা খাইতে দেয়

# : তাহলে পড়াশোনার খরচ চালাও কীভাবে?

## : ইস্কুল থেইক্কা দেয়

# : কোন স্কুল?

## : জুম বাংলা স্কুল (একটি স্বেচ্ছাসেবী স্কুল)

# : স্কুল থেকে তুমি কী কী পাও?##: বই-খাতা, কেলাসের সময় খাওন দেয়, কাপড়-চোপড়, আরও অনেক কিছু

# : অবসরে কী করো?

## : ক্রিকেট খেলি আর ছবি আঁকি

আরো পড়ুন  জাপানী উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার কয়েকটি উদাহরণ

# : ফেসবুক সম্পর্কে কিছু জান?

## : হ, জানি। ফেসবুকে ছবি ছাড়ে, চেট করে। আরও অনেক কিছু করা যায়।

# : তোমার মোবাইল আছে?

## : না। মায় কইছে, আমার ১৮ বছর হইলে মোবাইল কিন্না দিব

# : তোমার প্রিয় খাবার কী?

## : ভাত ও আলুবাজি

# : কেন, পোলাউ-মাংস খেতে পছন্দ করো না?## : কই পামু এসব। এগুলো খাইতে অনেক টেকা লাগে

# : পড়াশোনা করে কী হতে চাও?

## : ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ে পইড়া একজন পুলিশ অইতে চাই

# : ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে পুলিশ হবে কেন?## : একজন ভালো পুলিশ অইতে চাই। সমাজ থেইক্কা সব অপরাধ দূর করবো।

একদিন সে অনেক বড় হতে চায়। দূর করতে চায় দেশ থেকে অপরাধ। পাশে দাঁড়াতে চায় অসহায় মানুষের। চায় মায়ের দুঃখ ঘোচাতে। এসব স্বপ্ন নিয়েই জীবন সংগ্রামে যুদ্ধ করে যাচ্ছে রবিউল।

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Dhaka News Time