দাবি আদায়ে আমরণ অনশনে ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থী

সেশন জট, ক্রুটিপূর্ণ ফলাফল, ফলাফল প্রকাশের বিলম্ব ও স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবনসহ নানা সমস্যা সমাধানের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নীলক্ষেতে ঢাবির অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবি আদায়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে তারা এ ঘোষণা দেন। ৫ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

আমরণ অনশনের ঘোষণা দেওয়া ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থী হলেন, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের আবু নোমান রুমি, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজী বিভাগের সাকিব, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাইফুল ইসলাম। এদিকে সকাল থেকে সেশন জট, ক্রুটিপূর্ণ ফলাফল, ফলাফল প্রকাশের বিলম্ব ও স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবনসহ নানা সমস্যা সমাধানের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করছে শিক্ষার্থীরা।

আরো পড়ুন  ৭ কলেজের অনার্স ১ম বর্ষ ১৭-১৮ সেশনের রুটিন প্রকাশিত, রুটিন দেখুন এখানে

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো:

পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটি মুক্ত ফলাফল প্রকাশসহ একটি বর্ষের সকল বিভাগের ফলাফল একত্রে প্রকাশ করতে হবে। তারা উল্লেখ করেছেন- ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ২০১৬ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল ২০১৮ সালে প্রকাশিত হলেও সব বর্ষে পাশ থাকা সত্ত্বেও এখনো অনেকের সিজিপিএ আসেনি। তাই দ্রুত সিজিপিএ সমন্বয় করতে হবে। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ২০১৭ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের লিখিত পরীক্ষা ২০১৮ সালের ২৮ জুলাই শেষ হলেও এখনো সকল বিভাগের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।

ডিগ্রী, অনার্স, মাস্টার্স সকল বর্ষের ফলাফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশসহ খাতার পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন- যেমন ইডেনের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ইংরেজি বিভাগের ৩০০ জন শিক্ষার্থী প্রথমবর্ষে শুধু বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে ফেল করার পুনরায় সবার খাতা নিরীক্ষণের আবেদন করেন। পরবর্তীতে প্রকাশিত ফলাফলে ৩/৪ জন ছাড়া সবাই পাশ করে।

আরো পড়ুন  শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি

সাত কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন চাই। তাদের মতে, স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন না থাকায় সাত কলেজের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে। যেমন, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ২০১৬ সালের মাস্টার্স এবং ডিগ্রি ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ২০১৭ সালের পরীক্ষা ২০১৯ সালে এসেও এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।

প্রতিমাসে প্রত্যেকটা বিভাগে প্রতি কলেজে দুইদিন করে মোট ১৪ দিন ঢাবির শিক্ষকদের ক্লাস নিতে হবে। তাদের মতে- এটা যদি ঢাবির পক্ষে সম্ভব না হয়, তাহলে সাত কলেজের প্রশ্ন প্রণয়ন এবং খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব অবশ্যই সাত কলেজের শিক্ষকদের দিতে হবে এবং সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক ক্যালেণ্ডার প্রকাশসহ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করা।

Dhaka News Time