ট্রাক ভর্তি লাশ ইতালিতে: কোন মুভির দৃশ্য নয়, বাস্তবতা

ওয়ার্ল্ডোমিটারের দেয়া তথ্যানুসারে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ২৬৯,৯১১ জন আর মৃতের সংখ্যা ১১,২৬৭ জন। উৎপত্তি স্থল চায়নার মৃত্যুহারকে ছাড়িয়ে এখন সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর সংখ্যা ইতালিতে। ৪,০৩২ জন এ পর্যন্ত মারা গেছে সেখানে। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসের কারণে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ডও ইতালিতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে মারা গেছে ৬২৭ জন। এ অবস্থায় গতকাল টুইটারে ভাইরাল হওয়া এক ছবিতে দেখা গেছে ইতালির করোনার এপিসসেন্টার লম্বার্ডির বারগামো শহরে ট্রাকের সারি দাঁড়িয়ে আছে লাশের জন্য, জায়গা না হওয়াতে অন্য শহরগুলোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এই লাশ।

এ ছবি দেখে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন ছবিটার সত্যতা নিয়ে। ইতালির অবস্থা ভয়াবহ সবাই জানতেন, তাই বলে এত ভয়ংকর কেউ ভাবতেও পারছিলোনা। এ যেন হরর মুভির দৃশ্য, কিছুতেই বাস্তব নয়। হাসপাতালের করিডরে পরে আছে লাশ, প্যাকেট করে রাখা। আত্মীয় স্বজন কেউ ধরতে পারবেনা সেটা। সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে লাশ পুড়িয়ে ফেলার জন্য। বারাগামোর মেয়র জানিয়েছেন এখানকার শবদাহগুলো দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করছে, কিন্তু তারপরও লাশের সংখ্যার সাথে পেরে উঠছেনা। ফলে অন্য শহরগুলোর সাহায্য চেয়েছেন তারা।

লাশ পোড়ানোর পরে যে ছাই পাওয়া যাবে সেটা পরিবারের কাজে অবশ্যই ফেরত দেয়া হবে বলে মেয়র জানিয়েছেন। আর দেশটির সেনাবাহিনী সূত্র নিশ্চিত করেছে ১৫টি ট্রাকে করে ৫০ জন সৈনিকের দায়িত্বে এ লাশগুলো বারগামোর নিকটবর্তী শহরগুলোতে নিয়ে যাওয়া হবে। এ ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হওয়ার পর ইতালির লোকজন এ ছবিকে বলছে তাদের দেশের করুণতম ছবি। বারগামেরার বাসিন্দা তার বাড়ির পেছনে ট্রাক ভর্তি করা লাশের ছবি নিয়ে যেতে দেখে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। সারা পৃথিবীর লোকজনকে সতর্ক হতে, বাসায় থাকতে অনুরোধ করে তারা বলেছে ইতালির পরিণতি যেন আর কোন দেশের না হয়।

শহরতলিতে অপেক্ষমান সেনাবাহিনীর ট্রাক। ছবি: রেক্স

কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া সত্বেও আমরা সময়মতো সতর্ক হতে পারিনি। ইতালি ফেরত হাজার হাজার মানুষ দেশে ফিরে সদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ এখন পর্যন্ত দেশের ঘোষিত অধিকাংশ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ইতালি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো থেকে আগত মানুষের মাধ্যমে। পর্যাপ্ত টেস্ট কিট পাওয়া গেলে দেশের করোনা ভাইরাসের সত্যিকারের চিত্র পাওয়া যাবে।

দেরিতে হলেও প্রশাসন তৎপর হয়েছে। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যা ইউরোপ ফেরত বাসিন্দা থাকায় লক ডাউন করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে খুঁজে খুঁজে সবাইকে বাধ্যতমূলকভাবে হোম কোয়ারাইন্টানে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। নিতান্ত জীবন ও জীবিকার প্রয়োজন ছাড়া কেউ রাস্তায় না বের হলে ইতালির পরিণতি এড়াতে এখনও সময় আছে আমাদের।

Dhaka News Time