‘আসামী কোর্টে উঠলেই চাবি ফেরত দেওয়া হবে’ - Dhaka News Time

‘আসামী কোর্টে উঠলেই চাবি ফেরত দেওয়া হবে’

দেশে এক অভিনব কান্ড ঘটে গিয়েছে। যে সোশাল মিডিয়ায় মুখ গুঁজে থাকা তারুণ্য নিয়ে শুভ্রকেশী মুরব্বীদের ক্ষোভ – এই তারুণ্য উচ্ছন্নে গিয়েছে, এই তরুণ সমাজ লইয়া কী করিব(!) সেই তারুণ্যই দেশের রাজনীতি ও জনপরিসর সংশোধন করবার দায়িত্ব নিয়েছে।  ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন হয়ে সর্বশেষ যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশের তারুণ্যকে নতুনভাবে চিনিয়ে দিচ্ছে। বলতে দ্বিধা নেই, এই তরুণরাই এক নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করবে।

Photo: Hasan

ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ এপ্রিল। সেদিন দুপুর ১টার দিকে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক ছাত্রী বাড্ডা থেকে উত্তরায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে তুরাগ বাসে যৌন হয়রানির শিকার হন। পথে বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীরা নেমে যেতে থাকলে বাসটি ফাঁকা হয়ে যেতে থাকে। অন্যদিকে বাসটিতে কোন নতুন যাত্রী না উঠানোতে ভয় পেয়ে শেষ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে তিনিও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটে বাস থেকে নামতে যান। তখন হেলপার-কন্ডাক্টর হাত ধরে তাকে আটকানোর চেষ্টা করে। উপায়ন্তর না পেয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই তিনি চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে নেমে নিজেকে রক্ষা করেন।

Photo: Konok

তারপর অন্য উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে সহপাঠীদের সাথে বিষয়টি শেয়ার করেন। ট্রিমিস্টার ফাইনাল চললেও পরীক্ষার দিকে না তাকিয়েই তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইউইউ ড্রিমার্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয় এবং রোববার সকাল থেকেই উত্তরার বিএনস সেন্টারের সামনে তুরাগ পরিবহনের বেশকিছু বাস আটক করে বিক্ষোভ করেন তারা। রাস্তায় যেন যানজট বেঁধে না যায় সেজন্য তারা আটক করা মাত্রই বাসগুলোকে সেক্টরের ভেতরে নিয়ে রাখেন। রোববার বিকেল পর্যন্ত তারা ৩৫ টি বাস আটকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের সামনের রাস্তায় নিয়ে রাখে।

 

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন-আন্দোলনকারী  দ্বিপাক্ষিক বৈঠক Photo: S M Hasan

 

বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে সাময়িকভাবে আন্দোলন মূলতবি করা হয় ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা না হলে মঙ্গলবার দুপুর ১টার পর থেকে ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে রবিবার সন্ধ্যায় বাস মালিক ও পুলিশের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

 

Photo: Konok

আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৩ এপ্রিল সোমবার বিকালে রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নিজে অভিযুক্তদের সনাক্ত করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা তুরাগ পরিবহনের বাসের চালক রোমান (২৭)কন্ট্রাক্টর মনির (২৭) ও হেলপার নয়ন (২৯)।

Photo: Hasan

কিন্তু এতেই শিক্ষার্থীরা থেমে থাকেনি। যেহেতু অনেক ক্ষেত্রেই গ্রেপ্তারকৃতদের থানা থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয় তাই তারা পুলিশকে নতুন আল্টিমেটাম দেন। আল্টিমেটামে জব্দ করা ৩৫ টি বাসের চাবির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় – আসামীদের আগে কোর্টে তোলা হোক, তারপর বাসের চাবি হস্তান্তর করা হবে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম মুখপাত্র এবং ছাত্রদের ভার্চুয়াল সংগঠন ইউইউ ড্রিমার্সের প্রতিষ্ঠাতা এস এম হাসান জানিয়েছেন তারা নিজ দায়িত্বে পুলিশের সহযোগিতায় বাসগুলোর হেফাজত করছেন।

Photo: Hasan

শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন আশাব্যঞ্জক। তাদের ইস্পাতসম দৃঢ়তা আমাদের সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখায়। উর্ধ্বাকাশে তাকিয়ে বলতে ইচ্ছে হয় সাবাস তারুণ্য, সাবাস উত্তরা ইউনিভার্সিটি। 

বন্ধুদের জন্য শেয়ার করে দিন

About Dhaka News Time

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।