অ্যাপভিত্তিক পরিবহনের ভাড়া ট্যাক্সিক্যাবের চেয়ে বেশি হবে না - Dhaka News Time

অ্যাপভিত্তিক পরিবহনের ভাড়া ট্যাক্সিক্যাবের চেয়ে বেশি হবে না

উবার, পাঠাওসহ মোবাইল অ্যাপভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রাইড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মোটরকারে যাত্রীদের কাছ থেকে ৪০ টাকা ভিত্তি ধরে প্রতি কিলোমিটার ১৮ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে। রাইড শেয়ারিং সার্ভিস বিষয়ক নীতিমালা জারি হলে এই ভাড়া কম্পানিগুলো আরো বাড়ানোর সুযোগ পাবে বলে আশঙ্কা করছে যাত্রীরা। কারণ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো খসড়া নীতিমালায় বলা আছে, রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া ‘ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস গাইডলাইন, ২০১০’ অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়া অপেক্ষা বেশি হতে পারবে না। বর্তমানে ট্যাক্সিক্যাবে প্রথম দুই কিলোমিটার ৮৫ টাকার পর প্রতি কিলোমিটার ৩৪ টাকা করে ভাড়া নির্ধারিত আছে।

‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা, ২০১৭’ আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের জন্য পাঠানো নীতিমালার খসড়ায় সব ক্ষেত্রেই মোটরযানের কথা বলা আছে। নীতিমালায় ভাড়াসংক্রান্ত অনুচ্ছেদের কোথাও মোটরসাইকেলের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু উবার, পাঠাওসহ বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক কম্পানি মোটরসাইকেলেও যাত্রী পরিবহন করছে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকের জন্য পাঠানো সারসংক্ষেপে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, রাইড শেয়ারিং সার্ভিস চালু হলে ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগরীতে যানজট পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে, যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং মোটরযান মালিকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখনো আধুনিক গণপরিবহনব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে গড়ে ওঠেনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস চালু রয়েছে। এ দেশেও কিছু কম্পানি কার্যক্রম শুরু করেছে। ঝামেলামুক্ত ও আরামদায়ক যাত্রীসেবা হিসেবে মহানগরবাসীর কাছে এর চাহিদা রয়েছে।

উবার, পাঠাওয়ের নিয়মিত যাত্রী ফারুক আল ফয়সাল বলেন, ঝামেলামুক্ত, সহজলভ্য হওয়ার পাশাপাশি ট্যাক্সিক্যাবের চেয়ে কম ভাড়ায় আরামদায়ক ভ্রমণের জন্যই অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবা গ্রহণ করছে যাত্রীরা। নীতিমালায় যদি ট্যক্সিক্যাবের সমান ভাড়া নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে কম্পানিগুলো ভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে যাত্রীদের এখনকার চেয়ে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হবে।

তবে নীতিমালায় বলা হয়েছে, অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত ভাড়া নিয়ে যাত্রী অসন্তোষ শুরু হলে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারবে, ভাড়াও নির্ধারণ করে দিতে পারবে। এ বিষয়ে নীতিমালার ‘ঙ’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আওতায় চলাচলকৃত ব্যক্তিগত মোটরকারের ভাড়া ‘ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস গাইডলাইন, ২০১০’ অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়া অপেক্ষা বেশি হতে পারবে না। তবে কোনো কারণে ভাড়াসংক্রান্ত যাত্রী অসন্তোষ সৃষ্টি হলে সে ক্ষেত্রে সরকার ভাড়া নির্ধারণ/পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে।”

কেবল ব্যক্তিগত মোটরকার, মোটরসাইকেলই নয়, যে কেউ চাইলে তার জিপ গাড়ি, অ্যাম্বুল্যান্সও রাইড শেয়ারিংয়ে যুক্ত করতে পারবে। নীতিমালার ক(৫) অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আওতায় ব্যক্তিগত মোটরযান যেমন—মোটরসাইকেল, মোটরকার, জিপ, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুল্যান্স অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।

বর্তমানে ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং চালু রয়েছে। নীতিমালা অনুমোদিত হলে যেকোনো মফস্বল এলাকায় বা শহরে সর্বনিম্ন ২০টি গাড়ি নিয়ে এই সেবা চালু করা যাবে।

এই নীতিমালার আওতায় ব্যক্তিগত মোটরযান রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার পর কমপক্ষে এক বছর পার না হলে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আওতায় নিয়োজিত করা যাবে না। আর একজন মোটরযান মালিক মাত্র একটি গাড়িই রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে পরিচালনার অনুমতি পাবেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ওয়েবসাইটে রাইড শেয়ারিংয়ে নিযুক্ত সব যানবাহনের তালিকা শ্রেণিবদ্ধভাবে একটি মেন্যুতে রাখা হবে। সেখানে যাত্রীর অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকবে।

রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গাড়ির মালিক বা চালকের একটি সমঝোতা চুক্তি হতে হবে। ওই চুক্তিতে সব পক্ষের অধিকার ও দায়-দায়িত্বের বিষয় উল্লেখ থাকবে। গাড়ির মালিক বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এক মাস আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে চুক্তির সমাপ্তি ঘোষণা করতে পারবে।

নীতিমালায় যাত্রীর নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নীতিমালার ‘খ’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাইড শেয়ারিং অ্যাপ্লিকেশনে এসওএস সুবিধা থাকবে। কোনো জরুরি মুহূর্তে এসওএস বোতাম স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই রাইড শেয়ারিং অ্যাপ্লিকেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই ফোন নম্বরে রাইড শেয়ারিং মোটরযান চালকের সব তথ্য ও যাত্রীর জিপিএস লোকেশন পাঠাবে। যাত্রীরা যাতে স্মার্টফোনের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে নিয়োজিত চালকের ছবি, নাম, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ মোটরযানের অবস্থান ভালোভাবে দেখতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা অ্যাপ্লিকেশনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রতিটি যাত্রা যাতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম প্রয়োজনে সরাসরি দেখতে পারে, তার ব্যবস্থাও থাকতে হবে। যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে জরুরি বার্তা বা সংকেত পাঠানোর একটি উপযুক্ত ব্যবস্থা অ্যাপ্লিকেশনে থাকতে হবে। অ্যাপ্লিকেশনটি বিআরটিএ থেকে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর কল সেন্টার সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টাই খোলা রাখতে হবে।

যেকোনো যাত্রীর ভ্রমণের রেকর্ড তিন মাস সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়।

রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে যেসব ব্যক্তিগত যান নিযুক্ত হবে, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোনোভাবেই ওই সব গাড়ির মালিকানা দাবি করতে পারবে না। প্রতিষ্ঠানগুলো রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের পুরো তথ্য বাংলাদেশের মধ্যেই প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করবে। কোনো তথ্যই কোনোভাবে বাংলাদেশের বাইরে পাঠানো যাবে না। এ ছাড়া রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান অন্য কোনো পক্ষের কাছে ড্রাইভার বা যাত্রীর ব্যক্তিগত শনাক্তযোগ্য কোনো তথ্য প্রকাশ করবে না। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা বিআরটিএ বা অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনে তা সরবরাহ করতে হবে।

বন্ধুদের জন্য শেয়ার করে দিন

About Mohammad Rony

Mohammad Rony
মোহাম্মাদ রনি, বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও সর্বাধিক পঠিত অনলাইন ব্লগ সাইট "ঢাকা নিউজ টাইম"এর একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞান বিষয় নিয়ে বি.বি.এ অনার্স সম্পন্ন করছেন। তিনি পাশাপাশি "ঢাকা আইটি সলিউসন" একজন ডিজিটাল মার্কেটার এবং গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।