অনুসন্ধানি প্রতিবেদন – বিজ​য় কিবোর্ড মোস্তফা জব্বারের বানানো ন​য়, চুরি করা ! (ভিডিওসহ​)

নিজেকে বিজয় বাংলা কিবোর্ডের জনক দাবি করলেও মানবিক আর বাংলায় পড়ুয়া জব্বারের দ্বারা যে কখনোই বিজয় কীবোর্ড তৈরি করা সম্ভব নয় সেটা সবারই জানা ছিলো। পরবর্তীতে অবশ্য বিজয় কীবোর্ডের তৈরির আসল গোমরও ফাঁস হয়। জব্বারের পক্ষে যে কীবোর্ডের লে-আউট তৈরি সম্ভব নয়, সেটা নিয়ে অনেকে তাকে চ্যালেঞ্জ করলেও তিনি তা গ্রহন করেননি। banglamail71 র অনুসন্ধানে জানা যায়, মোস্তফা জব্বার একজন অতি মুনাফালোভী ও প্রতারক হিসেবে আইসিটি অঙ্গনে পরিচিত। জানা যায়, বিজয় কীবোর্ডের জনক দাবি করলেও এর প্রস্তুতকারক মোস্তফা জব্বার নন। বিজয় কী বোর্ড বানিয়েছিলেন বুয়েটের ৯৪ ব্যাচের CSE এর ছাত্র মুনিরুল আবেদিন পাপ্পানা, যাকে বুয়েটে ৪র্থ বর্ষে পড়া অবস্থায় মাইক্রোসফট চাকরী দিয়ে নিয়ে যায়। যার পুরো পারিশ্রমিকটুকুও পরিশোধ করেনি জব্বার।

তার বানানো বিজয় ২০০০-কেই শুধু খোলস পালটে আরো ৩ বছর বিজয় ২০০৩ নামে চালানো হয়। জব্বারের প্রতারণার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে একটি ছোট্ট বার্তা কীবোর্ডের ভিতরে সেট করে গিয়েছিলেন পাপ্পানা। যা বিজয় ২০০০ সহ পুরান এবং আদি এডিশনে ঢুকলেই শো করতো।(নিচের ভিডিওতে দেখুন)ক্ষমতার বলে অন্যজনের তৈরি করা বিজয় কীবোর্ডের প্যাটেন্ট নিজের নামে করিয়ে নিয়েছেন জব্বার। এমনকি তার মিথ্যা কপিরাইট ক্লেইমের জন্য গুগল তার প্লেস্টোর থেকে রিদমিক কিবোর্ড সরিয়ে দিয়েছিল।

জানা যায়, মোস্তফা জব্বারের কাছে গুগল তাদের এন্ড্রয়েড সিস্টেমের সাথে বিজয়কে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলো নতুন প্রজন্মকে মোবাইল ফোনে বাংলায় লিখতে পারার সুবিধা করে দিতে। কিন্তু মুনাফালোভী জব্বার অতি উচ্চমূল্য দাবি করায় গুগল জনৈক মেহেদি হাসান খান ও তার টিম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘অভ্র’কে বিনামূল্যে মোবাইল ফোনে উন্মুক্ত করে দেয়। এতে অভ্রের জনপ্রিয়তা ব্যাপক মাত্রায় বাড়তে থাকে। তা সহ্য করতে না পেরে কিছুদিন পরই অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী জব্বার কপিরাইট মামলা করে মেহেদি হাসান খান ও তার টিমের বিরুদ্ধে। তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যাভাবে দাবি করেন, অভ্র একটি পাইরেটেড সফটওয়্যার, যা বিজয় হ্যাক করে করা হয়েছে এবং এর নির্মাতা একজন হ্যাকার।

তিনি চেয়েছিলেন বিজয় কীবোর্ড ফ্রি করে না দিয়ে বিক্রি করে একাই ব্যবসা করে যাবেন। এখানে কাউকে অংশীদার হতে দিবেন না। কিন্তু অভ্র এসে তার ব্যবসায় ভাটা তৈরি করায় তিনি ক্ষুব্ধ হন।পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন যখন ভোটার আইডি কার্ড তৈরির কাজে বিজয় না ব্যবহার করে অভ্র ব্যবহার করলো, তখন জব্বারের গাত্রদাহ আরো প্রবল হয়। তখন সরকারকে ভুল বুঝিয়ে কিবোর্ড লেআউটের কপিরাইট তিনি নিজের নামে করিয়ে নেন। যা ছিলো সম্পূর্ণ অবৈধ। আর পাশাপাশি নিজের খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে চালিয়ে যান অভ্রর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার। এভাবেই তিনি একজন অতি মুনাফাখোর, লোভী হিসেবে নিজের চরিত্রটি সবার সামনে উন্মুক্ত করেন।

বন্ধুদের জন্য শেয়ার করে দিন

About Dhaka News Time

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।