পাঠাওতে ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে ইন্দোনেশিয়ার গো-জেক

অ্যাপ ভিত্তিক মোটরসাইকেল সেবাদাতা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান পাঠাওতে বিনিয়োগ করছে ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন ভিত্তিক স্টার্টআপ গো-জেক। চুক্তির সাথে জড়িত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। কয়েক সপ্তাহ আগেই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত এই দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাঠাওতে প্রথম ধাপে ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে গো-জেক।

সংবাদমাধ্যম ডিল স্ট্রিট এশিয়া থেকে পাঠাও এবং গো-জেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর আগে এক প্রতিবেদনে পোর্টালটি জানিয়েছিল বাংলাদেশি স্টার্টআপে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করছে গো জেক। গো-জেক পাঠাওয়ের ক্ষুদ্র একটি শেয়ার ক্রয় করেছে। কেননা পাঠাও এর বেশিরভাগ হোল্ডিং বিক্রি করতে রাজি হয়নি। ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের মতে এই চুক্তির মাধ্যমে গো-জেক বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও প্রবাহমান বাজারে দারুণ সূচনা করতে পারবে। ইন্দোনেশিয়ার মতো বাংলাদেশেও ট্রাফিক একটি বড় সমস্যা। গো-জেকের মূল ব্যবসার সাথে পরিবহন সংক্রান্ত বিষয়াদি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মতো সম্পূর্ণ নতুন কোন অঞ্চলে এই খাতে বিনিয়োগ করছে গো-জেক। ইন্ডাস্ট্রি সূত্র জানিয়েছে গো-জেকের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান টেনসেন্ট পাঠাওতে বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। ওই কর্মকর্তারা জানান, পাঠাওয়ের আদি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হেজ ফান্ড এই চুক্তির স্বপক্ষে অবস্থান করেছিল। পাঠাওয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে গো-জেকের ব্যবসায়িক মডেল আনার জন্য দুজন বিনিয়োগকারী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলেও জানা গেছে।

ইন্দোনেশিয়ার স্টার্টআপ কোম্পানি গো-জেক। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসায় ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে ২০১৫ সালে হুসেইন ইলিয়াসের তত্ত্বাবধানে যাত্রা শুরু করে পাঠাও। এ খাতে বর্তমানে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাঠাও ২০১৫ সাল থেকে অ্যাপ ভিত্তিক মোটরসাইকেল সেবা দেওয়া শুরু করে। তাছাড়া খাবার ডেলিভারি দেওয়ার মতো সেবাও চালু করার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানিটির প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে জানান, পাঠাও বর্তমানে দিন প্রতি হাজার হাজার রাইড পরিচালনা করছে। ক্রাঞ্চবেজের মতে ২০১৫ সালের অক্টোবরে ব্যাটারি রোড ডিজিটাল হোল্ডিংস থেকে ব্যবসার শুরুর দিকেই বিনিয়োগ পেয়েছিল পাঠাও।

যানজটের শহর হিসেবে ঢাকা বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বিশ্ব ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকার গড় ট্রাফিকের গতি ঘন্টায় ২১ কিলোমিটার থেকে কমে গিয়ে ঘন্টায় ৭ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় ঢাকায় ট্রাফিক গতি কতোটা ধীর। ঢাকার এই যানজট দিন প্রতি ৩.২ মিলিয়ন ঘন্টা কাজের সময় অপচয় করছে। বাংলাদেশে অন্যান্য রাইডিং-হেইলিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে বিডিক্যাবস, চলো, গাড়িভাড়া, ট্যাক্সিওয়ালা। বাইক-হেইলিং স্টার্টআপের মধ্যে আছে আমারবাইক। বিডিক্যাবসের মাধ্যমে গ্রাহকরা অটো-রিক্সাসহ গাড়ি সেবা পেয়ে থাকে। গত বছর বিডিক্যাবস তুরস্ত ভিত্তি স্টার্টআপ ইটোহাম থেকে বিনিয়োগ পেয়েছিল। গত বছর নভেম্বরে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করে মার্কিন অ্যাপ ভিত্তিক ট্যাক্সি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান উবার। ভারতীয় রাইড হেইলিং অ্যাপ ওলাও ঢাকায় ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করছে।

বন্ধুদের জন্য শেয়ার করে দিন

About Dhaka News Time

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।