যা থাকছে রাইড শেয়ারিং নীতিমালায় - Dhaka News Time

যা থাকছে রাইড শেয়ারিং নীতিমালায়

রাইড শেয়ারিং নীতিমালা নিয়ে যেসব মতামত এসেছিল তার পর্যালোচনা শেষে এখন চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। যারা মতামত দিয়েছেন তাদের সঙ্গে আবার বসবে মন্ত্রণালয়। তবে যারা স্টেক হোল্ডার বা যেসব অ্যাপ প্রতিষ্ঠান রাইড শেয়ার সেবা দিচ্ছে তাদের সঙ্গে এখনো বৈঠকের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।

ব্যক্তিগত যানবাহন বিশেষ করে মোটরযান, জিপগাড়ি, মাইক্রোবাস, অটোরিক্সা, অ্যাম্বুলেন্স এবং মোটর সাইকেল এই নীতিমালার আওতায় আসবে। নতুন এ নীতিমালার নাম দেওয়া হয়েছে ‘রাইড শেয়ারিং নীতিমালা ২০১৭’। তবে ব্যক্তিগত মোটরযান ভাড়ায় চালানোর জন্য বর্তমানে দেশে কোন আইন নেই। বিধিবিধানও নেই। সেই ক্ষেত্রে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ৫৩ ধারার ক্ষমতাবলে পরীক্ষামূলকভাবে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস চালুর জন্য এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

নীতিমালার পটভূমি ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, প্রাইভেটকার, জিপ, মাইক্রোবাস, মোটর সাইকেলের মতো ছোট ছোট যানবাহনের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় দেশের সড়ক, মহাসড়ক ও মহানগরীতে অনাকাঙ্খিত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অপর দিকে মহানগরীগুলোতে যাত্রীদের তুলনায় যানবাহন সংখ্যা কম হওয়ায় স্বাভাবিক যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে এক দিকে যেমন সর্বসাধারণের মূল্যবান কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে তেমনি ভাবে বৈদেশিক মূদ্রায় কেনা মূল্যবান জ্বালানির অপচয় হচ্ছে।

বিশ্বের বহুদেশেই ইন্টারনেট ভিত্তিক সফটওয়ার এপ্লিকেশনের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস চালু করে ব্যক্তিগত গাড়ি হ্রাস করেছে। রাইড শেয়ারিং এমন একটি যাত্রী পরিবহন সেবা ব্যবস্থা সেখানে ব্যক্তিগত মোটরযানের মালিক নিজ প্রয়োজন মিটিয়ে ইমেইল অথবা স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ভিক্তিক অনলাইন এপ্লিকেশন ব্যবহার করে ব্যক্তিগত মোটরযান ভাড়ায় পরিচালনা করতে পারে।

এটি একটি নিরাপদ নির্বিঘ্ন সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ডোর টু ডোর পরিবহন সার্ভিস। এর ফলে ব্যক্তিগত যানবাহন কেনার হার কমে আসবে।

রাইড শেয়ারিং সার্ভিস পরিচালনার জন্য বিআরটিএ’র কাছ থেকে রাইড শেয়ারিং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে এনলিস্টমেন্ট সনদ নিতে হবে। মোটরযান মালিককেও রাইড শেয়ারিং মোটরযান এনলিস্টমেন্ট সনদ নিতে হবে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে টিআইএন নম্বরধারী পাবলিক অথবা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে। কমপক্ষে ২’শ মোটরযান ছাড়া কোন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রাইড শেয়ারিং এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না। তবে হাল নাগাদ রুট পারমিট থাকা সাপেক্ষে অটোরিক্সা ও ট্যাক্সিক্যাবসহ ভাড়ায় চালিত হিসেবে রেজিস্ট্রেশনকৃত সকল ধরণের যাত্রীবহী মোটরযান এ সার্ভিসে যুক্ত হতে কোন ধরণের এনলিস্টমেন্ট সনদ দরকার হবে না।

রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে ব্যবহৃত মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, ইনসিওরেন্স এবং রুট পারমিট হালনাগাদ থাকতে হবে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া এ সার্ভিসের কোন যানবাহন যেখানে-সেখানে থামতে পারবে না। যাত্রী উঠানামা করা ছাড়া এ সার্ভিসের যানবাহন চলাচলরত থাকতে হবে।

একজন মোটরযান মালিক একটি মাত্র যানবাহন এ সার্ভিসের জন্য পরিচালনার অনুমতি পাবেন। তবে ভাড়ায় চালিত যানবাহন এ শর্তের আওতায় পড়বে না। এ নীতিমালা জারির পর কেনা মোটরযান এক বছর অতিক্রান্ত না হতে এ সার্ভিসে যুক্ত হতে পারবে না।

রাইড শেয়ারিং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেটের মাধ্যমে মোবাইল ফোন অথবা স্মার্টফোন ভিত্তিক সফটওয়ার অ্যাপ্লিকেশন প্রযুক্তি সুবিধা দিয়ে এ সার্ভিস নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, নির্বিঘ্ন ও সহজলভ্য করার যাবতীয় ব্যবস্থা করবে।

তারাই মোটরযান চালককে এপ্লিকেশন ইনস্টলেশন, ব্যবহারসহ যাবতীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে। ভ্রমণের শুরুতেই যাত্রীরা যাতে ভাড়ার পরিমাণ জানতে পারেন সেই ধরণের সুবিধা রাইড শেয়ারিং এপ্লিকেশনে থাকতে হবে। ভ্রমণ শেষে যাত্রীরা যাতে ভ্রমণ শুরু ও সমাপ্তির স্থান, ভ্রমণের মোট সময় ও দুরত্ব মোট ভাড়ার পরিমাণ একটি ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড এসএমএস এর মাধ্যমে পেতে পারে সে সংক্রান্ত সুবিধা এ এপ্লিকেশনে থাকতে হবে। এ সংক্রান্ত তথ্য রাইড শেয়ারিং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কমপক্ষে ৩ মাস সংরক্ষণ করবে। যাত্রীরা যাতে চালক ও ভ্রমণ বিষয়ে মতামত দিতে পারে এপ্লিকেশনে তার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে আইন প্রয়োগকারি সংস্থার ফোন ও মোবাইল নম্বর এপ্লিকেশনে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র, বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র, মোবাইল নম্বর ও ছবিসহ যাবতীয় তথ্যাদি সংরক্ষণ করবে। যাত্রীরা যাতে মোবাইলে চালকের ছবি, নাম এবং মোটরযানের নম্বর ভালভাবে দেখতে পারে এপ্লিকেশনে তা থাকতে হবে। এ সার্ভিসের কোন মোটরযানে প্রথম যাত্রী আরোহণের পর দ্বিতীয় যে কোনো যাত্রী এপ্লিকেশন ব্যবহার করে মোটরযানটি ট্রাকিং করে অবস্থান জেনে নিতে পারে সে ধরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে ভাড়ার হার আপাত ডিরেগুলেটেড থাকবে। যাত্রী অসন্তোষ দেখা দিলে সরকার ভাড়ার হার নির্ধারণ করে দেবে। এ সার্ভিসের মোটরযান মালিক অথবা চালকরা কোন ধরণে অপরাধে জড়ালে প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৩-এর ৩ অনুসারে ‘রাইড শেয়ারিং’ সার্ভিস এলাকা ঠিক করা হয়নি। এই সেবা কত দূর বিস্তৃত হবে তাও বলা হয়নি। মহাসড়কে চলতে দেয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু ঢাকার ভেতরে সীমানা কি হবে তা বলা হয়নি। এ হিসেবে কেউ উত্তরার পরে আর যাচ্ছে না। আবার কেউ ওদিকে সাভার পর্যন্ত রাইড শেয়ারিং সার্ভিস চালু রাখছে। কারো সীমানারই ঠিক-ঠিকানা নেই।

রাইড শেয়ারিং নীতিমালায় ভূমিকায় লেখা হয়েছে, যানজট নিরসনে এটি ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন গাড়ি না কিনে রাস্তায় থাকা গাড়িগুলো দিয়েই এ সেবা বিস্তৃত হবে। এখানে নতুন কোনো গাড়ি নামবে না এই ব্যবসার জন্য। কিন্তু আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মহাসড়কে রাইড শেয়ার সার্ভিসের কোনো যানবাহন না চলার সুপারিশ জমা দেয়।

রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলো এরই মধ্যে উচ্চহারে ভাড়া নিয়ে রাইড শেয়ার করছে, তারা শুরুতে বেশি টাকা দিয়ে শুরু করেছে। প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভাড়ার অঙ্কটি তারা বাড়াতে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্ধুদের জন্য শেয়ার করে দিন

About Dhaka News Time

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।