বর্ষার খিচুড়িভোগ: ভারতের বিখ্যাত ৫টি রেসিপি

বর্ষা মানেই খিচুড়ি ইজ আ মাস্ট। কিন্তু চেনা বাঙালি খিচুড়ি ছাড়াও সারা ভারতে আরও অনেক ধরনের খিচুড়ি রয়েছে। তেমনই বেছে নেওয়া ৫টি রেসিপি রইল আপনাদের জন্য। চেখে দেখে জানাতে ভুলবেন না কেমন লাগল।

গুজরাতি ভাগারেলি খিচুড়ি 

(৪ জনের মাপের)

উপকরণ:

চাল— ১ কাপ
মুগডাল— ১/২ কাপ
অড়হর ডাল— ১/৪ কাপ
আলু— ১টি (মাঝারি মাপের)
পেঁয়াজ— ১টি (মাঝারি মাপের)
তেল— ২ টেবিলচামচ
সর্ষে— ১/৪ টেবিলচামচ
চিলি পেস্ট— ১/২ টেবিলচামচ
আদাবাটা— ১/২ টেবিলচামচ
হলুদগুঁড়ো— ১/২ টেবিলচামচ
লঙ্কাগুঁড়ো— ১ টেবিলচামচ
গরমমশলা— ১/৪ টেবিলচামচ
নুন— স্বাদমতো
জল— ৫ কাপ
কারিপাতা— ৫/৬টি

প্রণালী:

চাল, মুগডাল এবং অড়হর ডাল মিশিয়ে নিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন। তারপর আধ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। আধ ঘণ্টা পরে জল ফেলে দিয়ে সরিয়ে রাখুন একপাশে। আলু ও পেঁয়াজ ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন। প্রেশার কুকারে তেল গরম করুন মাঝারি আঁচে। সর্ষে ও কারিপাতা ফোড়ন দিন। এরপর পেঁয়াজ ও আলু অল্প নেড়েচেড়ে তাতে চিলি পেস্ট, আদাবাটা, লঙ্কাগুঁড়ো ও নুন দিয়ে মশলা কষুন। এরপর হলুদ গুঁড়ো ও গরম মশলা দিয়ে অল্প একটু নেড়েচেড়ে ভেজানো চাল-ডাল দিয়ে আবার একটু নেড়ে নিন। তার পরে ৫ কাপ জল ঢেলে দিন। আঁচ মাঝারি রেখে ৭-৮টি সিটি দিয়ে নিন। খিচুড়ি তৈরি। গুজরাতে এই ধরনের খিচুড়ি টক দই বা বাটারমিল্কের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

রাজস্থানি কাঠিয়াওয়াড়ি খিচুড়ি

(৪ জনের মাপের)

উপকরণ:

চাল— ১ কাপ
পিঁয়াজকলি— ৩টি (মাঝারি মাপের)
রসুন— ২টি
বিনস— ১/২ কাপ (কুচোনো)
কড়াইশুটি— ১/২ কাপ
ধনেপাতা— গার্নিশের জন্য
বেগুন— ১টি (মাঝারি মাপের)
টোম্যাটো— ১/২ কাপ (কুচোনো)
কারিপাতা— ৮/১০টি
সবুজ লঙ্কা— ৩টি (কুচোনো)
লাল লঙ্কাগুঁড়ো— ২ টেবিলচামচ
হিং— এক চুটকি
নুন— স্বাদমতো
গরমমশলা পাউডার— ১/২ চা-চামচ
হলুদগুঁড়ো— ১/২ চা-চামচ
সর্ষে— ১ চা-চামচ
সাদাজিরে— ১ চা-চামচ
তেল— ৩ টেবিলচামচ
ঘি— ২ টেবিলচামচ

প্রণালী:

সমস্ত সবজি কুচিয়ে নিন। লঙ্কা, রসুন ও ধনেপাতাও কুচিয়ে রাখুন। চাল আধঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। কড়ায় তেল ও ঘি গরম করুন ও তাতে পেঁয়াজ ভাজুন। পেঁয়াজ হালকা বাদামি হলে তাতে জিরে, রসুন ও কুচোনো সবুজ লঙ্কা দিন। অল্প নেড়েচেড়ে লাল লঙ্কাগুঁড়ো, হলুদগুঁড়ো ও গরমমশলা গুঁড়ো দিন। অল্প কষে নিয়ে এতে ভেজানো চাল দিন ও আবার ২-৩ মিনিট নাড়াচাড়া করুন। এবার এতে বাকি সবজিগুলি দিন। কড়ায় এবার অল্প গরম করে রাখা জল দিন। জল যেন চালের উপরে ২ ইঞ্চি পর্যন্ত থাকে। জল শুকিয়ে এলে আরও একটু গরম জল দিন। এবার নুন ও হিং দিন। জল ফুটতে শুরু করলে আঁচ কমিয়ে রান্না করুন। খিচুড়ি হয়ে গেলে উপরে কুচোনো ধনেপাতা ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন টক দইয়ের সঙ্গে।

নারিয়েল কি খিচড়ি

উপকরণ:

বাসমতি চাল— ২ কাপ (১ কাপ=২৫০ মিলি)
গোটা সবুজ মুগ— ১ কাপ (কল বেরনো)
নারকোল— ২/৩ কাপ (কুচোনো)
হলুদগুঁড়ো— ১/৫ চা-চামচ (রংয়ের জন্য)
হিং— অল্প
জিরে গুঁড়ো— ১ চা-চামচ
নুন— স্বাদমতো
চিনি— ১/৪ চা-চাম
ধনেপাতা— ১ কাপ (কুচোনো)
ঘি— ১ টেবিলচামচ
তেল— ১ চা-চামচ
গরমজল— ৪ কাপ

প্রণালী:

প্রেশার কুকারে ঘি এবং তেল গরম করে নরম আঁচে রাখুন। এতে হিং দিন। ৩-৪ সেকেন্ড পরে ভেজানো চাল দিন এবং ২-৩ মিনিট নাড়াচাড়া করুন। সাবধানে নাড়ুন, যাতে চাল ভেঙে না যায়। এবার এতে মুগ, নারকোল, জিরে গুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো, নুন, চিনি এবং ধনেপাতা দিন এবং সাবধানে নাড়তে থাকুন আরও ২ মিনিট যাতে চাল কুকারের তলায় আটকে না যায়। এর পর ৪ কাপ গরমজল দিন। প্রয়োজন মনে হলে তার একটু বেশিও দিতে পারেন। ভাল করে সব উপকরণ মিশিয়ে নিয়ে ২টো সিটি দিয়ে নিন নরম আঁচে। এই খিচুড়ি মুগ অল্প দাঁতে কাটার মতো সেদ্ধ হবে।

বাংলার পাঁঠার মাংসের খিচুড়ি

উপকরণ:

পাঁঠার মাংস– ৫০০ গ্রাম
দেরাদুন রাইস– ৩০০ গ্রাম
বড় আলু– ২টে
মুসুর ডাল– ১০০ গ্রাম
ভাজা মুগ ডাল– ১৫০ গ্রাম
পেঁয়াজ বাটা– ২টো বড়
রসুন বাটা– ১ টেবিল চামচ
আদা বাটা– ১ টেবিল চামচ
টক দই– ১০০ গ্রাম
টমেটো– ২টো
আস্ত পেঁয়াজ– ১০০ গ্রাম
গরমমশলা– ছোটো ১ চামচ
ঘি– পরিমাণমতো
সরষের তেল– ১০০ গ্রাম
কাঁচালঙ্কা– ৬-৮টা
নুন ও চিনি– পরিমাণমতো
হলুদগুঁড়ো– ১ টেবিল চামচ
লঙ্কাগুঁড়ো– সামান্য
জিরে— ফোড়নের জন্য
তেজপাতা— ফোড়নের জন্য
শুকনো লঙ্কা– ফোড়নের জন্য

প্রণালী:

মাংস‚ পেঁয়াজ‚ আদা‚ রসুনবাটা‚ টক দই‚ হলুদ‚ লঙ্কাগুঁড়ো মাখিয়ে ১ ঘন্টা ম্যারিনেট করুন। কড়াইতে আধ কাপ তেল দিয়ে মাখা মাংস দিয়ে কষতে থাকুন। তেল ছেড়ে দিলে গরম জল দিন। সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা দিয়ে রান্না করুন। বেশ ভাজা ভাজা করে নামিয়ে রাখুন। এবার ডেকচিতে বাকি তেল ও ঘি দিয়ে জিরে‚ তেজপাতা ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। চাল ও ডাল ভাল করে ভেজে নিন। এরপর বাকি মশলা ও আলু দিয়ে দিন। জল দিয়ে ঢাকা দিয়ে দিন। যতটা চাল ও ডাল তার দ্বিগুণ জল দিতে হবে। চাল ও ডাল প্রায় সেদ্ধ হয়ে এলে রান্না করা মাংস মিশিয়ে দিন। এর পর কয়েক চাল-ডাল পুরো সেদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে নিন।

মহারাষ্ট্রের কোলাম্বিচি খিচুড়ি

উপকরণ:

কুচো চিংড়ি— ৩৫ থেকে ৪০টি
কামিনী আতপ— ২ কাপ
কড়াইশুটি— ১ কাপ
হলুদগুঁড়ো— ২ চা-চামচ
নুন— স্বাদমতো
জল— ৫ কাপ
ধনেপাতা— ১ কাপ (কুচোনো)

(রোস্ট মশলার জন্য)
লাল পেঁয়াজ— ২টি
শুকনো নারকোল কুচোনো— ৩ চা-চামচ
শুকনো লঙ্কা— ৫/১০টি (ঝালের পছন্দ অনুযায়ী)
গরমমশলা গুঁড়ো— ৩ চা-চামচ
পোস্ত— ২ চা-চামচ
তেল— ১ চা-চামচ

(ফোড়নের জন্য)
কেওড়া বীজ— ১ চা-চামচ
লবঙ্গ— ৫টি
গোটা গোলমরিচ— ১ চা-চামচ
দারচিনি— ২ ইঞ্চি
তেজপাতা— ২টি
তেল— ২ টেবিলচামচ

প্রণালী:

কুচো চিংড়ি বেছে, ধুয়ে, হলুদ-নুন মাখিয়ে রাখুন। ধনেপাতা কুচিয়ে রাখুন। চাল ধুয়ে নিন। একটি প্যানে মাপমতো জল দিয়ে রেডি করে রাখুন। এবার রোস্ট মশলা বানিয়ে নিন। শুকনো খোলায় প্রথমে নারকোল সোনালি করে ভেজে তুলে রাখুন। এর পর একইভাবে পোস্ত ভেজে নিন। তার পর এতে আবার ভাজা নারকোল দিয়ে ও গরমমশলা দিয়ে নেড়ে নিয়ে একপাশে রেখে দিন। পেঁয়াজ জুলিয়ান কাটে কাটতে হবে। এবার একটি প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ মুচমুচে ও বাদামি করে ভেজে নিন। এর পর আরও কয়েক ফোঁটা তেল দিয়ে তাতে শুকনো লঙ্কা নেড়ে নিন। এবার এই সমস্ত মশলা একসঙ্গে মিক্সিতে অল্প জল দিয়ে গ্রাইন্ড করে মিহি পেস্ট বানিয়ে নিন।

কড়ায় বা ডেকচিতে জল গরম করুন। অন্য একটি ডিপ ফ্রাই প্যানে তেল গরম করুন এবং ফোড়নের মশলা দিন। এর পর এতে ভেজানো চাল দিন এবং আঁচ কমিয়ে দিয়ে চাল নাড়তে থাকুন। ২-৩ মিনিট পরে চিংড়ি এবং কড়াইশুটি দিন। ৫-৬ মিনিট নেড়েচেড়ে গরম জল ঢেলে দিন এবং নুন দিন। এর পর আঁচ বাড়িয়ে চাল ফুটিয়ে নিন যতক্ষণ না জলের পরিমাণ অর্ধেক হচ্ছে। এবার এতে রোস্ট মশলার পেস্টটি দিন এবং ভাল করে মিশিয়ে আঁচ কমিয়ে দিন। নরম আঁচে রান্না করুন যতক্ষণ না চাল সেদ্ধ হচ্ছে। খিচুড়ি হয়ে গেলে তার উপরে ধনেপাতা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

বন্ধুদের জন্য শেয়ার করে দিন

About Dhaka News Time

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।