ঢাকায় রহস্যময় দেয়ালচিত্র : সুবোধ - Dhaka News Time

ঢাকায় রহস্যময় দেয়ালচিত্র : সুবোধ

গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একটি অদ্ভূত দেয়াল চিত্র সবার মনোযোগ আকর্ষন করে। এই দেয়ালচিত্রগুলোর একমাত্র চরিত্র ‘সুবোধ’। এর সব কটিতে সুবোধের ছবি আকানো,আর লেখা: ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, এখন সময় পক্ষে না।’ কোনোটায় হয়তো লেখা ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, মানুষ ভালোবাসতে ভুলে গেছে।’ অথবা ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, তোর ভাগ্যে কিছু নেই’, কিংবা ‘সুবোধ এখন জেলে, পাপবোধ নিশ্চিন্তে বাস করছে মানুষের মনে’। আর এই প্রতিটি দেয়ালচিত্রের লোগো আকারে ব্যবহার করা হয়েছে একটি শব্দ: ‘হবেকি’ (HOBEKI?) অনেকেই দেয়াল চিত্রটির ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিতে থাকেন ।  অনেক পথচলতি মানুষের আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়ে যায় সুবোধ।  ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়েছে এই চিত্রগুলো। সেখানে অনেকেই সুবোধ এবং এর আর্টিস্টদের পরিচয় জানতে কৌতূহলী হয়ে উঠেছেন। এই দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা জানতেও কৌতূহলী হয়ে উঠছেন তাঁরা। কেউ কেউ এই দেয়ালচিত্রগুলো দিয়ে অ্যালবাম সাজিয়েছেন। কেউ তাঁদের প্রোফাইল পিকচার আর কাভার পিকচার বানিয়েছেন এই গ্রাফিতি (Graffiti-দেয়ালচিত্র) দিয়ে। তবে এর আর্টিস্ট কে বা কারা, তার হদিস এখনো মেলেনি।এনটিভি অনলাইনে ২৪শে মে তারিখে এই বিশয়ে একটি আর্টিকেল ছাপা হয় ।এরপরে  দৈনিক প্রথম আলো ২রা জুন ২০১৭ সালে এই দেয়ালচিত্র নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে ।  এর পরে আরো অনেক মিডিয়ায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয় । ধীরে ধীরে অনেকেই এর সম্পর্কে জানতে পারেন ।

গুগল সার্চ দিয়ে সুবোধের সবচেয়ে পুরনো ছবিটার খোজ পাই  ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখে । ওইদিন  চারুকলার এক্স স্টুডেন্ট আনহা এফ খান তার ফেসবুক একাউন্টে একটি ছবি আপলোড দেন । ক্যাপশনের তথ্য অনুযায়ি, তিনি এই ছবিটা তুলেছেন আগারগাও এলাকায় ক্যান্টমেন্ট এর দেয়াল থেকে ।

ছবিতে দেখা যায় , খালি গায়ে খালি পায়ে উশক খুশকো চুল দাড়ি নিয়ে এক লোক অর্ধেক পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে । তার হাতে একটা পাখির খাচা । খাচার ভিতরে লাল রঙের পিচ্চি একটা সূর্য। ডান পাশে ক্যাপশন লেখা- সুবোধ তুই পালিয়ে যা । তোর ভাগ্যে কিছু নেই ।

বাম পাশে সিগনেচার এর জায়গায় ইংরেজি অক্ষরে লেখা রয়েছে- FOL । এখানে O অক্ষরটা লাল কালিতে ভরাট করে দেওয়া ।

এপ্রিল মাসের ১০ তারিখে আনহা এফ খান আরেকটি ছবি আপলোড করেন #FOI_HOBEKI হ্যাশট্যাগ দিয়ে । ক্যাপশনের তথ্য অনুযায়ী এই ছবিটাও আগারগাও এর ওই দেয়াল থেকেই তোলা  হয়েছে। এখানে সুবোধ খাচাভর্তি সূর্য নিয়ে বসে বসে কপাল চাপড়াচ্ছে । ডান পাশে ক্যাপশন-সুবোধ তুই পালিয়ে যা, তোর ভাগ্যে কিছু নেই। বাম পাশে সিগনেচারের জায়গায় কালো কালিতে লেখা HOBEKI? লক্ষ্যনীয় বিষয় হল,এখানে সূর্যের কালার হলুদ।

এপ্রিলের ১৪ তারিখ তিনি আরো একটি ছবি আপলোড করেন । এই ছবিটাও আগারগাও ওয়াল থেকে তোলা । একেবারে প্রথম ছবিকে যদি আমরা বলি পোর্ট্রেট,তাহলে এটাকে বলতে হবে ল্যান্ডস্কেপ। কালার কম্বিনেশন আর ছবির ওরিয়েন্টেশন ছাড়া তেমন কোনো চেঞ্জ নেই । তবে এখানে সিগনেচারের জায়গায় FOI না লিখে HOBEKI? লেখা রয়েছে।


এপ্রিলের ১৫ তারিখে জনৈক ফাইজ শরিফ তমাল নিচের ছবিটা আপলোড করেন । এর লোকেশন একদম আগারগাঁও মোড়ে, শেরে বাংলানগর বালক উচ্চ বিদ্যালয় এর লোহার বেঁড়া ঘেঁসে পাওয়ার হাউসের রুমে–এমনটাই তিনি উল্লেখ করেছেন । এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে জিন্সের প্যান্ট পরে খালি গায়ে সুবোধ লোহার শিক ধরে দাঁড়িয়ে আছে । ক্যাপশন লেখা- সুবোধ এখন জেলে ! পাপবোধ নিশ্চিন্তে বাস করছে মানুষের মনে । এই ছবিতে HOBEKI লোগোটা আকানো হয়েছে কালো অক্ষরে ।

এপ্রিলের ১৮ তারিখে পুরনো এয়ারপোর্টের ওয়াল থেকে এই ছবিটা তুলে আপলোড দেন আনহা এফ খান । এখানে দেখা যায় , ডান হাতে খাচাভর্তি হলুদ রঙের সূর্য নিয়ে উর্ধ্বিশ্বাসে দৌড়াচ্ছে সুবোধ । ছবির পাশে ক্যাপশন- সুবোধ তুই পালিয়ে যা এখন সময় পক্ষে না ।

এরপরে আর দীর্ঘদিন সুবোধের নতুন কোনো ছবি পেলামনা । জুন মাসের ৩ তারিখে জনৈক কাজী রোখসানা রুমা সুবোধ সিরিজের নতুন বেশ কিছু ছবি আপলোড করেন । তবে এই ছবিগুলোর লোকেশন সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি ।একটি ছবিতে দেখা যায় সূর্যভর্তি খাচা একটি তারে ঝুলছে । পাশে কোনো ক্যাপশন নেই , কেবলমাত্র HOBEKI এর লোগো ।

আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে খালি খাচা নিয়ে সুবঢ পিছনে ফিরে দাঁড়িয়ে আছে । কোন ক্যাপশন নাই, কোনো লোগো নাই । ছেলেটার আউটলাইন দেখেও সন্দেহ জাগে যে এইটা সুবোধ কিনা। সম্ভবত এই ছবিটা সুবোধ সিরিজের অন্তর্ভূক্ত নয় । কাজী রোখসানা রুমা অবশ্য এটাকে সুবোধের ছবি দাবি করেই আপলোড করেছেন ।

জনৈক IF Riaz একটি ফটো কমেন্টে নিচের ছবিটি পোস্ট করেছেন জুন মাসের ৩ তারিখে। তবে এই ছবিটা কোথা থেকে তোলা হয়েছে সেটা বলেননি । এখানে খাচার ভিতরে দেখা যাচ্ছে লাল রংগের একটি হৃদপিন্ড নিয়ে সুবোধ বসে আছে এবং হতাশায় কপাল চাপড়াচ্ছে ।ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, সুবোধ তুই পালিয়ে যা।

সাইফুল আমিন কাজল জুন মাসের ৬ তারিখে আরেকটি ছবি কমেন্ট করেছেন  । লোকেশন অজ্ঞাত । ছবিতে দেখা যাচ্ছে , খাচাবন্দী সূর্য মাটিতে পড়ে রয়েছে । সুবোধ খাচাটা তোলার চেষ্টা করছে । পাশে ক্যাপশন- হবেকির অভিযান/বলছে তোকে/সুবোধ তুই পালিয়ে যা/ভুলেও ফিরে আসিস না । ধানমন্ডি ১০/এ আবাসিক এলাকা থেকে তিনি এই ছবিটি তুলেছেন বলে দাবি করেন ।

ফয়সাল আরেফিন আরেকটি ছবি আপলোড করেন জুন মাসের ৯ তারিখে । তিনি দাবি করেছেন, IDB ভবনের পাশে যাত্রী ছাউনি,শেরে বাংলা স্কুলের গেটের সামনে এই ছবিটা আকানো হয়েছে । এই ছবিটা ঠিক ক্লিয়ার নয় ।পায়ের পজিশন দেখে মনে হয়, খাচাবন্দী সূর্য নিয়ে সুবোধ একটা দীর্ঘ লাফ দিচ্ছে । আবার হাতের পজিশন দেখে মনে হচ্ছে, খাচাবন্দী সূর্য উড়ে যেতে চাচ্ছে, সুবোধ সেটাকে ধরে রাখতে চাইছে । পাশে ক্যাপশনে লেখা- তবুও সুবোধ রাখিস সূর্য ধরে ।

একটি ইউটিউব ভিডিওতে এই ছবিটার একটা বেটার ভিউ পেলাম ।  এখানেও লোকেশন জানতে পারিনি । এই ছবিটা কোনো দেয়ালে  আকা হয়েছে,নাকি মূল ছবিকে ফটোশপ করে এডিট করা হয়েছে ,সেটাও ক্লিয়ার নয়।

সূর্যটাকে এইভাবে ক্যাচ ধরতে দেখে গ্রীক পুরানের প্রমিথিউসের গল্প মনে পড়ে যায় । দেবতা জিউস মানুষের উপরে রাগ করে পৃথিবী থেকে সব আগুন তুলে নিয়ে যায় । সিচুয়েশনটা এমন দাঁড়ায় যে, আগুনের অভাবে মানবজাতি কোন কাজ করতে পারবেনা, তাদেরকে হয়তো কিছুদিন পরেই বনমানুষের জীবন বেছে নিতে হবে । একজন সাহসী মানব সন্তান,প্রমিথিউস,সিদ্ধান্ত নিল যে,অলিম্পাস পাহাড়ের উপরে অবস্থিত স্বর্গ থেকে আগুন চুরি করে আনবে । প্রমিথুস জানতো যে তার এই কাজের জন্য ভবিষ্যতে দেবতারা তাকে কঠিন শাস্তি দেবে ।কিন্তু পুরো মানবজাতিকে বাচানোর জন্য সে ব্যক্তিগত শাস্তি মাথা পেতে নিল । এক শুভদিনে অলিম্পাস পাহাড়ে উঠে দেবতা হেফাস্টাসের কামারশালা থেকে একটি মশালে আগুন ধরিয়ে লাফ দিয়ে পৃথিবীতে চলে আসল । (পরবর্তীতে দেবতারা প্রমিথিউসকে খুব কঠিন শাস্তি দিয়েছিলেন । একটি পাহাড়ের মাঝে তাকে শিকল দিয়ে বন্দী করে রাখা হয়েছিল । একটি শকুন তার শরীর ঠুকরে ঠুকরে সারাদিন ধরে মাংস খেতো। রাতের বেলায় তার শরীরের মাংস আবার গজিয়ে যেতো। পরেরদিন শকুনটা এসে আবার তার শরীরের মাংস খেতো । অনন্তকাল ধরে তাকে এই শাস্তি পাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল দেবতারা । প্রমিথিউসের এটা নিয়ে কোনো আক্ষেপ ছিলনা ।মানবজাতিকে সে বাচাতে পেরেছে,এটাই ছিলও তার স্যাটিসফেকশন । পরবর্তীতে মানব জাতির মধ্য থেকে আরেকজন বীর,নাম- হারকিউলিস,পাহাড়ে উঠে শকুনটাকে তীর দিয়ে মেরে ফেলে প্রমিথিউসকে উদ্ধার করেছিল।)

prometheus

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুবোধ সিরিজের ছবিগুলো আকা হয়েছে স্টেনসিল  (লেখা বা আঁকার জন্য ছিদ্রময় পাত) ব্যবহার করে। এই পদ্ধতিতে স্প্রে করে দ্রুত আঁকার কাজ করা যায়।

আগারগাঁও থেকে শ্যামলীর শিশুমেলায় যাওয়ার পথে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাছে এইরকম একটি দেয়ালচিত্র (গ্রাফিতির) পাশে এনটিভির সাংবাদিকের সাথে কথা হয় স্থানীয় নার্সারিতে কাজ করা নূর মহম্মদের সঙ্গে। ছবিগুলো কে আঁকছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারা আঁকছে দেখি নাই। এগুলো পোলাপানে রাতের অন্ধকারে  আইসা আইক্যা গেছে মনে হয়।’

ওই এলাকাতেই রিকশা চালান তরুণ পিপুল। তাঁর সঙ্গে কথা হয়। জানালেন, তিনি এই এলাকাতেই নিয়মিত রিকশা চালান। এমন আরো ছবি বিভিন্ন জায়গায় দেখেছেন।

এরপর পিপুল এই ছবিগুলো ( সুবোধের সিরিজ ছবি) কোথায় কোথায় দেখেছে জানালেন। পিপুল বলেন, ‘আমি দেখছি অনেক জায়গায়। কিন্তু কারা আকছে তা কইতে পারমু না। দেখি নাই। গোপনে আকছে মনে হয়।’

এনটিভির রিপোর্টে সুবোধ বাদে,শুধুমাত্র হবেকি লোগো ওয়ালা আরেকটি ছবিও পেলাম । এই ছবির কোনো ব্যাখ্যা অবশ্য পাওয়া গেলনা ।

সুবোধ চরিত্রটি এবং তার আর্টিসটরা একটি রহস্যময় আবহ তৈরি করেছে অনেকের কাছেই। সুবোধকে নিয়ে  এই গ্রাফিতিকে মাথায় রেখে গান আর কবিতাও লেখা হচ্ছে। সুবোধকে নিয়ে একটি কবিতা স্ট্যাটাস হিসেবে দিতে দেখা গেছে অনেককে। তবে নাম জানা যায়নি মূল লেখকের। যেমন-জনৈক জেফরিন গুলশান টুইট করেছেন  , ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা/ বড় নষ্টদের এই শহরটা/ এখানে জারুল ফুলের দিনে /কেউ তোর হাত ছুঁয়ে হাঁটবে না।’

এই নাম না জানা দেয়ালচিত্রশিল্পী সুবোধকে কেন পালিয়ে যেতে বলছেন? অনেকেই এর পিছনে দেশের আর্থ-সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থার কথা তুলেছেন। সাংবাদিক তুষার আবদুল্লাহ লিখেছেন:

সুবোধ কেন পালাবে? পালাতে চাইতেই পারে সে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ সে। তাতে রুজির জন্য পথে নামতে হয়। পথে নামামাত্র তাকে জিম্মি হয়ে পড়তে হয় পরিবহন শ্রমিক-চালক-মালিকের স্বেচ্ছাচারিতার কাছে। যখন যেমন খুশি ভাড়া আদায়। ইচ্ছে করলে বাসে তুলবে, আবার গলা ধাক্কা দিয়ে নামিয়েও দেবে। প্রতিবাদ করলে ধর্মঘট। সুবোধ এই স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে বাঁচে কী করে? রোগ-বালাই নিয়ে হাসপাতালে ছুটতে হয়। সেখানে আবার চিকিৎসক-নার্স-ওয়ার্ড বয়ের দৌরাত্ম্য। সেই দৌরাত্ম্য সইবার পরেও যদি ঠিকঠাক চিকিৎসা মিলতো তাহলে মনকে বোঝানো যায়। সেখানে আবার ডাক্তারে ভেজাল, ওষুধে ভেজাল, রোগ নির্ণয়ের রকমারি পরীক্ষায় ভেজাল।

বাংলাদেশে মুসলমানদের সাধারনত আরবী নাম হয় আর হিন্দুরা বাংলা নাম রাখে । সুবোধ একটি বাংলা নাম ,অনুমান করা যায় সে হিন্দু । হিন্দুরা বাংলাদেশে বিভিন্নভাবেই নির্যাতিত । খুব তুচ্ছ ঘটনাতেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটে বাংলাদেশে, যার পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দুদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয় । সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছাড়াও অন্যান্য অনেক তুচ্ছ কারনেই হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হয় । তখন বাধ্য হয়েই দীর্ঘদিনের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি এবং সম্পত্তি ছেড়ে দিয়ে ভারতে পাড়ি জমায় এবং সেখানে উদ্বাস্তুর জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৫১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী পূর্ব পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ২২% ছিলও হিন্দু .২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৮.৫ % হিন্দু ।  এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে ।

নাগরিক কবি শামসুর রাহমান বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ‘সুধাংশু যাবে না’ শিরোনামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। নির্যাতনের শিকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা তখন দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন। কবিতাটা এখানে কোট করছি ।

পাগলামী করিসনে বন্ধু সুধাংশু
 
সময় যে পার হয়ে যাচ্ছে
এবার যে তোর পালানোর বেলা
জিদ করিসনে বন্ধু, এখনই তুই পালা।
জানি তুই কী ভাবছিস বন্ধু সুধাংশু
 
দাঁড়িয়ে হাহাকারের ছোঁয়ায় জড়ানো শ্মশানসম বাস্তুভিটায়
 
সেই হারিয়ে যাওয়া প্রাণচঞ্চল দিনগুলো, আমাদের ছেলেবেলা
 
কিন্তু এবার যে তোর পালানোর বেলা, এবার তুই পালা।
 
আমি জানি নির্বাক দাঁড়িয়ে তুই কী ভাবছিস বন্ধু সুধাংশু
সেই একপাল বন্ধুগুলো ­ রামী, শেপু, কাকলী আরও অনেকে
প্রাণময় কোলাহলে কাটিয়েছি সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা বেলা
 
কিন্তু এবার যে তোকে পালাতে হবে, এবার তুই পালা।
 
আমি বুঝি তোর শঙ্কা আগামী বিরহ বেদনার বন্ধু সুধাংশু
 
আড়াই যুগ ধরে তিলে তিলে গড়ে উঠা আত্মার সম্পর্ক ­-
 
এই বাস্তুভিটার সাথে আর একঝাঁক বন্ধুর ভালবাসা প্রাণঢালা।
কিন্তু এবার যে তোকে পালাতে হবে, এবার তুই পালা।
 
কোথায় সেই কল-কাকলীতে মুখরিত সবুজ সুন্দর কাপালী-ভিটাটি
 
বন্ধু সুধাংশু
দু’টি জীর্ণ-শীর্ণ ঘর চির-দুঃখীর মতো দাঁড়িয়ে আছে আজ সেই
কাপালী ভিটায়।
কোথায় সেই রামী, শেপু, কাকলী আরও সেই প্রিয় বন্ধুগুলা
ওরা যে সবাই পালিয়েছে, এবার তোর পালা।
 
তুই কি জানিস বন্ধু সুধাংশু
 
তোর বিদায়ে ভীষণ ব্যথা পাবে আমার ঐ ছ’বছরের অবুঝ বোনটি
‘নেহা’
কাটাবে কত সন্ধ্যা অধীর প্রত্যাশায়, সুধাংশু ভাইকে জড়িয়ে ধরবেঃ
 
কোথায় চকলেটগুলা?
 
তবুও তোকে পালাতে হবে যে, এবার তুই পালা।
 
আরও জানি বন্ধু সুধাংশু
 
তোর ষোড়শী বোনটি ‘মিলা’ দুষ্টামির ছলে আর বলতে পারবে নাঃ
 
আলমদা তুমি এত কৃপণ কেন?
 
চলো মেলায় নিয়ে, কিনে দিতে হবে সুন্দর একটি মালা।
 
তথাপি তোকে পালাতে যে হবে, এবার তুই পালা।
 
তোকে যে বলা হয় নি বন্ধু সুধাংশু
 
মিলা’র সহপাঠী আমার ভাইটি ‘রিপন’ বলছিল সেদিনঃ ভাইয়া
 
মিলা’টা যা সুন্দর হয়েছে না!
 
বলে দিয়েছি ওকে, সুন্দরী মেধাবী মিলা বিশ্ব জয় করবে, তোর মতো
 
গর্দভটি ওর দিকে তাকাবে না।
 
তোর হাতে যে সময় নেই বন্ধু, এবার তুই পালা।
 
মিলাকে যে বিশ্ব জয় করতেই হবে বন্ধু সুধাংশু
 
অসাধারণ সুন্দরী মেধাবী মিলার জন্য এক ধর্ষিত, অচ্ছুৎ, অভাগী
 
নারীর জীবন ­
 
হবে মানবতার জন্য এক অমার্জনীয় ব্যর্থতা।
 
তাই আমার কাতর মিনতি বন্ধু, এখনই তুই পালা।

 

অনেকে ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা’ নামক গ্রাফিতি কে-কে ‘সুধাংশু এখনি পালা’  কবিতা থেকেই অনুপ্রাণিত বলে মনে করছেন।

বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবেও খুব একটা ভাল অবস্থা বিরাজ করছে না । দীর্ঘদিন ধরে একদলীয় শাসন চলছে । এই অবস্থার বিরুদ্ধে মূল ধারার মিডিয়া কিংবা রাজনৈতিক দল তেমন একটা সরব নয় । সুবোধ গ্রাফিতি দিয়ে শিল্পী গনতন্ত্রহীনতার কথাও বুঝিয়ে থাকতে পারেন ।

কাজী রোকসানা রুমা সুবোধকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার ফেসবুক পোস্টে । তিনি বলেছেন-

সুবোধ তুই পালিয়ে যা। এখন সময় পক্ষে না’। এই সুবোধই এখন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। বেকারত্বের প্রতিনিধি, অর্ধেক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। শুভ বোধের প্রতিনিধি। মুসলিম ধর্ম ছাড়া অন্য যে কোন ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের প্রতিনিধি। বুকের মধ্যে জ্বলজ্বল করা সূর্যটাকে খাঁচায় পুড়ে যে শুধুই ছুটে বেড়ায়। দেখি আর দম বন্ধ করা কান্না আমাকে ছিঁড়ে খুঁড়ে খায়। শুধু মনে মনে বলি ‘ভাগ মিলখা ভাগ, সুবোধ পালিয়ে যা’। কিন্তু কোথায়??????????????

সুবোধের গ্রাফিতিতে সূর্য একটা ইমপর্টেন্ট সাবজেক্ট । শিরোনামহীন   এবং আর্বোভাইরাসের সূর্য নামে পৃথক ২ টা গান আছে । শিরোনামহীনের গানে  বলা হয়েছে, স্বপ্ন দহণ পূণ্য না সয় /সত্যবচন ধর্মে না রয়  /কথার মাঝে নোনা দেয়াল /সূর্যটাকে রাখিস খেয়াল ।আর্বোভাইরাসের গানে বলা হয়েছে, এখনও আমাদের ভেতরের মানুষগুলো জেগে ওঠেনি বলে/ আমরা আরও কিছুক্ষণ নিষ্পাপ/ আমরা আনবো আলো মাটির গভীর থেকে/আমরা থাকবো সূর্যের পাশাপাশি আজ । এই গানের লিরিকের সাথে সুবোধ এর থিম এর কিছুটা মিল রয়েছে ।

তবে শিল্পী যদি বিমূর্ত চিন্তা করে থাকেন, সেক্ষেত্রে সুবোধ হয়তো কোন মানুষ নয় ।  সুবোধ হয়তো  একটা প্রতীকী চরিত্রের নাম, যে চরিত্র মানুষের মধ্যে ছিলো । সূর্য যেভাবে পৃথিবীর বুকে আলো ছড়ায়, অন্ধকার ঠেলে আলোর পথ দেখিয়ে দেয়, সু্বোধের কাছেও ছিলো সেই আলোর পথ দেখানো সূর্য যেটা সুবোধ খুব যত্ন সহকারে খাচার ভেতর সামলে রেখেছিল।কিন্তু বর্তমান যুগে মানুষদের ভেতর মারামারি, অপরাধপ্রবনতা, যুদ্ধ-বিদ্রোহ, ধর্ষণ, মিথ্যাচারীতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে মানুষদের মাঝ থেকে “সুবোধ” নামক চরিত্রটি হারিয়ে যাচ্ছে।
ভালো এবং সঠিক চরিত্রবান মানুষদেরকে কেউ দেখতে পারে না। ভালো মানুষদের জায়গা পৃথিবীতে নেই।
ভালো মানুষ বেশিদিন বেঁচে থাকে না। ভালো মানুষদের দাম নেই পৃথিবীতে।
সুবোধ (কিংবা সুপ্রবৃত্তি) মানুষের অন্তরে ঢুকে মানুষকে ভাল কাজ করতে এনকারেজ করতে চায়, কিন্তু ঢাকার পাপ পংকিলতায় সে হয়তো কাজ করতে পারছে না । কেউ তাকে বেইল দিচ্ছে না, কারো নীতিবাক্য শোনার টাইম নেই , সবাই নিজ নিজ দুর্নীতি/অপরাধের জগতে ব্যস্ত । এই কারনে শিল্পী হয়তো  সুবোধকে তার সূর্য নিয়ে  পালিয়ে যেতে বলছেন ।

যাত্রাদলে বিবেক নামক একটা ক্যারেক্টার থাকে । কেউ যখন মেজর কোনো অন্যায় করে, তখন বিবেক স্টেজে হাজির হয়ে তার অপরাধের কথা স্মরন করিয়ে দেয় । বিবেকের কথা শুনে কেউ কেউ অন্যায় থেকে বিরত থাকে । এই গ্রাফিতির থিম বাংলাদেশের যাত্রাদলের বিবেকের সাথে মিলে যায় ।

কবি এবং সাংবাদিক মাহমুদ জুয়েল বলেছেন,  সুবোধ নামটাই সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং! সুবোধ মানে সু+বোধ! হ্যাঁ, এই দুঃসহ দুঃসময়ে অবোধ নির্বোধ কুবোধের ব্যাধিকালে নামটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের সবচেয়ে জরুরি শব্দটিই আসলে ‘বোধ!’অভিধান ঘেঁটে বোধের অর্থ যা পাওয়া যায় তা হচছে উপলব্ধি, অনুভব শক্তি, টের, জ্ঞান, বুদ্ধি, সান্ত¡না, প্রবোধ, অনুমান; জাগরণ; চেতনা। আমরা এখনো কথায় কথায় ‘বোধ হয়’ শব্দদ্বয় ব্যবহার করি। এছাড়া এক সময় ‘বোধগম্য নয়’-এরও ব্যাপক ব্যাবহার করেছে বাঙালি। বোধ বিষয়ে বোধোদয় (জ্ঞানের বা বুদ্ধির উদয় বা উন্মেষ) হলেই বোধ হয় যে, বোধ থেকেই ‘বোধি’; খুবই রাশভারি শব্দ। যার ইংরেজি মানে ইনটুইশন; আন্ডারস্ট্যান্ডিং; ইনটেলেক্ট; আর বাংলায় পরম জ্ঞান। এছাড়া যে অশ্বত্থতরুর মূলে শাক্যসিংহ বুদ্ধত্বলাভ করেছিলেন তার নাম বোধিদ্রুম বা বোধিবৃক্ষ! আর আক্ষরিক অর্থে ‘বুদ্ধ’ বলতে একজন জ্ঞানপ্রাপ্ত, উদ্বোধিত, জ্ঞানী, জাগরিত মানুষকে বোঝায়। সেই অর্থে যেকোনো মানুষই বোধিপ্রাপ্ত, উদ্বোধিত এবং জাগরিত হতে পারে। সিদ্ধার্থ গৌতম এইকালের এমনই একজন ‘বুদ্ধ’। বুদ্ধত্ব লাভের পূর্ববর্তী (জাতকে উল্লেখিত) জীবনসমূহকে বলা হয় বোধিসত্ত্ব। বোধিসত্ত্ব জন্মের সর্বশেষ জন্ম হলো বুদ্ধত্ব লাভের জন্য জন্ম। ত্রিপিটকে, বোধিসত্ত্ব হিসেবে ৫৪৭ (মতান্তরে ৫৫০) বার বিভিন্ন কূলে (বংশে) জন্ম নেওয়ার ইতিহাস উল্লেখ আছে যদিও সুমেধ তাপস হতে শুরু করে সিদ্ধার্থ পর্যন্ত অসংখ্যবার তিনি বোধিসত্ত্ব হিসেবে জন্ম নিয়েছেন। তিনি তার আগের জন্মগুলোতে প্রচুর পুণ্যের কাজ বা পারমী সঞ্চয় করেছিলেন বিধায় সর্বশেষ সিদ্ধার্থ জন্মে বুদ্ধ হওয়ার জন্য জন্মগ্রহণ করেন। বুদ্ধত্ব লাভের ফলে তিনি এই দুঃখময় সংসারে আর জন্ম নেবেন না, এটাই ছিল তার শেষ জন্ম। পরবর্তী মৈত্রেয় বুদ্ধ জন্ম না নেওয়া পর্যন্ত পৃথিবীতে তার শাসন চলবে! এদিকে ‘বোধ বিজ্ঞান’ বলে বিজ্ঞানের একটি শাখা আছে। ইংরেজি ভাষায় যাকে কগনিটিভ সায়েন্স বলে। বোধ বিজ্ঞান হচ্ছে মন, মস্তিষ্ক ও বুদ্ধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা। এই গবেষণা ক্ষেত্রের সঙ্গে অনেকগুলো জ্ঞানের শাখা যেমন মনোবিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান, ভাষাবিজ্ঞান, দর্শন, কম্পিউটার বিজ্ঞান, নৃতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, ইত্যাদি জড়িত।

সংবাদকর্মী আতিয়া ফেরদৌস এনটিভিকে বলেন,, ‘সুবোধ সিরিজের গ্রাফিতি দেখে একদম প্রথমেই আমার মাথায় ব্যাংকসির কথা এসেছে। যদিও ব্যাংকসি এ রকম কোনো নির্দিষ্ট একটা চরিত্র নিয়ে কাজ করেনি, কিন্তু সুবোধের আর্টিস্টদের চিন্তার ধরন কেন জানি তার কথাই মনে করিয়ে দেয়। এই মুখ দেখানোর যুগে নিজেদের পরিচয় গোপন করে কাজ করে যাওয়াটা তো বিরল। সুবোধ সিরিজের পরবর্তী গ্রাফিতি দেখার অপেক্ষায় আছি।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ব্যাংকসি একজন ইংল্যান্ডের কার্টুনিস্ট। ছদ্মনামে তিনিও শহরের দেয়ালে গ্রাফিতি আকেন । তবে তার গ্রাফিতিতে ফিক্সড কোনো ক্যারেক্টার থাকেনা । দেয়ালের ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে মিল রেখে তিনি ছবি আকানোর চেষ্টা করেন । ব্যাংকসির কয়েকটি ছবি দিলাম এখানে।

ব্যাংকসির সাথে তুলনা করার পর্যায়ে সুবোধ হয়তো এখনো আসেনি । তবে বাংলাদেশে যেহেতু এই ধরনের স্ট্রিট আর্ট আগে তেমন দেখিনি, তাই একে ‘বাংলাদেশের ব্যাংকসি’ বললে আপত্তি করার কিছু থাকবে না ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে নগরজুড়ে দেয়াললিখন বা গ্র্যাফিটি এটিই প্রথম নয়। নব্বই দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ‘কষ্টে আছি- আইজুদ্দিন’ দেয়াললিখন বেশ নজর কেড়েছিল। এই আইজুদ্দিন লোকটা যে কে, সে সম্পর্কে কেউ দীর্ঘদিন জানতে পেরেনি । নিজের পরিচয় গোপন রেখেই সে বিভিন্ন জায়গায় দেয়াল লিখনের কাজ করে গিয়েছিল ।

২০১৫ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থেকে পুলিশ আইজুদ্দিন নামে এক লোককে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা ছিল।তখন সাংবাদিকরা জানতে পারেন যে ৪৫ বছর বয়স্ক এই লোকটাই দেয়াল লিখন শিল্পী আইজুদ্দিন । ঢাকা সহ তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ‘কষ্টে আছি আইজুদ্দিন’ লেখা সম্বলিত দেয়াল লিখন করতেন (পরিভাষায়-চিকা মারতেন)।

আইজুদ্দিন এর মত সুবোধ এর রহস্য কি কোনোদিন উন্মোচিত হবে ?বলা কঠিন ।

ফেসবুকে HOBEKI নামে একটি পেজের সন্ধান পেলাম । জুন মাসের ২ তারিখে এই পেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । তবে এই পেজটাই সুবোধ এর আর্টিসটরা পরিচালনা করছে, নাকি সুবোধ এর কোনো ফ্যান এই পেজ খুলে সেখানে লাইক পাওয়ার জন্য সুবোধের ছবি আপলোড করতেছে ,সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি ।

ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির  শিক্ষার্থী  সাজ্জাদুল ইয়াকিন ১৫ই জুন একটি ভিডিও আপলোড দেন । ভিডিওতে সুবোধকে নিয়ে একটি গান তিনি খালি গলায় গেয়েছেন । গানের কথাগুলো দেয়ালচিত্রের ক্যাপশনগুলোর সাথে মিলে যায় । গানের কথাগুলো এরকম-

ওরে বোধ-সুবোধ
তুই পালিয়ে যা তোর ভাগ্যে কিছু নেই
তোর সূর্যের তেজ বন্দী ওই হতাশার খাচাতে
তুই পালিয়ে যা সময় এখন তোর পক্ষে না
সুবোধের সু হচ্ছে সবাই বোধটা অজানা ।
কাক ডাকে ওই চাতকের মত বৃষ্টির খবর কি ?
জেলে বন্দী বোধ ডাকছে সূর্যের খবর হবে কি?
পাপবোধ নিশ্চিন্তে করছে বাস মানুষের হৃদয়ে
কারার কপাট ভেঙ্গে বোধটা আর আসছে না ভয়ে 
সুবোধ তুই পালিয়ে যা সময় পক্ষে না
ভালবাসতে মানুষ গেছে ভুলে খবর কি জানো না ?

তবে এই সাজ্জাদুল ইয়াকিন মূল সুবোধের অন্যতম আর্টিস্ত নাকি,সুবোধের গ্রাফিতি দেখে ইন্সপায়ার্ড হয়ে নিজে গানটি লিখেছনে সেটা বোঝা যাচ্ছেনা ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা শহরে নির্জন সময় পাওয়া যায় খুব কম । রাতের অনেক সময় রাস্তায় মানুষজন চলাচল করে। বিভিন্ন মোড়ে সিসি ক্যামেরা রয়েছে । এর ভিতরে পরিচয় গোপন রেখে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে যাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার । কাজের ধরন দেখে মনে হয়, এই ধরনের গ্রাফিতি আকানোর জন্য কয়েকজন লোকের দরকার । একজনের মাধ্যমে এটা সম্ভব নয় । একটা গ্রুপ অফ পিপল নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে দীর্ঘদিন দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি একে যাচ্ছে, নিঃসন্দেহে এটা প্রশংসার দাবিদার । তবে শিল্পী আত্মপ্রকাশ করে এই গ্রাফিতির অর্থ সবাইকে বুঝিয়ে দিলে আরো ভাল হতো ।

তথ্যসূত্র –

বন্ধুদের জন্য শেয়ার করে দিন

About Dhaka News Time

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।