আয়-ব্যয়ের বিস্তর ফাঁরাক!

অসামঞ্জস্যটা চোখে পড়ার মতো। যাঁরা একটু মিডিয়ার খোঁজ খবর রাখেন, তাঁদের কৌতুহল হতেই পারে অমুক নায়িকা তমুক গাড়িটা কবে কিনলেন? তাঁর খরুচে হাত দেখলে চোখ ছানাবড়া দিতেই পারে।

মিডিয়ায় আজকাল নায়িকা হিসেবে অভিষেক হওয়ার আগেই অনেকে গাড়ি হাকিয়ে ঘোরেন। অথচ মিডিয়ায় আসার আগে তাঁর পারিবারিক অবস্থা অতোটা সচ্ছল ছিল না। তাহলে হুট করে কোথা থেকে আসে এই অর্থ?

সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসা নায়িকা বিদ্যা সিনহা সাহা মিম। হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ ছিল মিমের প্রথম ছবি। এ ছবিতে তিনি কত পারিশ্রমিক পেয়েছেন তা জানা না গেলেও এরপর ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’ ছবি থেকে তাঁর পারিশ্রমিক বাড়তে থাকে। চার থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন তিনি। গত পাঁচ বছরে তাঁর মুক্তি প্রাপ্ত ছবির সংখ্যা সাতটি , মুক্তির অপেক্ষায় আছে আরো পাঁচটি সিনেমা। পারিশ্রমিক হিসেবে যদি ছবি প্রতি সাত লাখ টাকাও ধরা হয় তাহলে তা এই পাঁচ বছরে কত দাড়ায় ? হয়তো মডেলিং করেও এ রকমটা এত বছরে আয় করেছেন। কিন্তু মূল সম্পদ হিসেবে সেটা কত হতে পারে? জানা গেছে, ঢাকায় তার নামে রয়েছে কয়েকটি ফ্ল্যাট ও প্লট। রয়েছে বিলাস বহুল নিশান সানি গাড়ি।

‘ভালোবাসা সীমাহীন’ পরীমণির প্রথম ছবি। এ ছবিতে দুই লাখ টাকা পারিশ্রমিক পান তিনি। এরপর চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ছবি প্রতি পারিশ্রমিক নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি কোটি টাকা মূল্যের বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের গাড়ি কিনেছেন এ চিত্রনায়িকা। এছাড়া দু হাত ভরে খরচ করছেন। অসহায়দের দানের জন্যও তার বিশেষ সুনাম রয়েছে। এ নায়িকার অনেক ছবি মহরত পর্যন্তই আটকে থাকে। মুক্তির দেখা খুব কমই মেলে। মহরত হিসেব করলে নায়িকার প্রতিবছর রেকর্ড সংখ্যক ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন পরিমণি।

২০০৫ সালে চলচ্চিত্রে এলেও নায়িকা হিসেবে অপুর যাত্রা ২০০৬ সালে ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবির মাধ্যমে। প্রথম ছবিতে তিন লাখ টাকা পারিশ্রমিক পেলেও এক সময় এই অঙ্ক বেড়ে ১০ লাখে উন্নীত হয়। অপুর আগে শাবনূরই কেবল এই অঙ্কের পারিশ্রমিক নিতেন। বর্তমানে পাঁচ থেকে আট লাখ টাকায় কাজ করছেন তিনি। তাঁর নিজস্ব কোনো ফ্ল্যাটের খবর না পওয়া গেলেও তিনি অনেকটা শাকিব নির্ভর। বিষয়টি এক সময় মিডিয়ায় লুকোচুরি থাকলেও এখন তা প্রকাশ্যই।

২০১০ সালে ‘খোঁজ দ্য সার্চ’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আসেন ববি। প্রথম ছবিতে দুই লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিলেও এখন তিনি ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। তিনিও ছবি প্রযোজনায় নাম লিখিয়েছেন। তাঁর আয়ের সঠিক উৎস জানা যায়নি। বাৎসরিক হিসেবে তার ছবির সংখ্যা কম। মডেলিংয়ও করেননা তেমন তিনি। তাহলে তিনি কীভাবে রাতারাতি ছবির প্রযোজক বনে গেলেন ? শোনা যায়, পরিচালক ইফতেখার চৌধুরির সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তিনিই প্রযোজক হতে অর্থিক ভাবে সাহায্য করেছেন।

জয়া আহসান শুরুটা করেছিলেন তিন লাখ টাকা দিয়ে। বর্তমানে দুই বাংলার ছবিতে কাজ করছেন তিনি। দুই জায়গাতে পাঁচ থেকে আট লাখ পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন এই নায়িকা। তাঁর পারিশ্রমিকের হিসেব কিছুটা মিললেও। মোট সম্পত্তির হিসেব পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতাতেও তাঁর সম্পত্তি আছে।

২০১২ সালে দেড় লাখ টাকা পারিশ্রমিক দিয়ে বড় পর্দায় মাহির যাত্রা শুরু হয়। প্রথম ছবিতেই দর্শক গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে যাওয়ার পর এই অঙ্ক পাঁচ থেকে আট লাখ টাকায় ওঠানামা করছে।

নব্বই দশকে চলচ্চিত্রে আসা জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী এখনো অভিনয় করছেন। তবে তিনি নায়িকা নন, চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি ছবি প্রতি পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। পূর্ণিমা বেশ কয়েক বছর ধরে বড় পর্দা থেকে দূরে আছেন। সর্বশেষ ছবি প্রতি তিনি পাঁচথেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়েছেন। পপি এখন বড় পর্দায় অনিয়মিত। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী সর্বশেষ ছবিপ্রতি পারিশ্রমিক নিয়েছেন পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা। নুসরাত ফারিয়া চলচ্চিত্রে নতুন হলেও পারিশ্রমিকের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। শুরু থেকেই ছবি প্রতি ৮ থেকে১০ লাখ টাকা পারিশ্রমিকে কাজ করছেন তিনি।

নায়িকাদের এমন আয়ের হিসেবে তাদের ব্যায় ও সম্পত্তির হিসেবটা সত্যিই বেমানান! প্রতি বছর এসব নায়িকারা সর্বোচ্চ তিনটি নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন। অনেকে মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বেশিরভাগই ফুল টাইম সিনেমা অভিনেত্রী। তাহলে তাদের এই অর্থ উৎস কোথায়? যদিও কারো সম্পত্তির হিসেবই সঠিকভাবে জানা সম্ভব নয়। নামী নায়িকার পাশাপাশি বেনামী মডেলদেরও রয়েছে আর্থিক প্রাচুর্যতা। নিয়মিত গাড়ি বদল হয়। অনাড়ম্বর জীবনযাপনের রেশ পাওয়া যায় স্যোশাল মিডিয়ায়। অনেকে মনে করেন ‘ নায়ক বা মডেলদের চেয়ে নায়িকারা বেশি সচ্ছল। এর প্রতিফলন দেখা যায় তাঁদের জীবন যাপনেও। যদিও নায়িকাদের চেয়ে নায়কদের পারিশ্রমিক অনেক বেশি। আজকাল সিনেমায় নায়িকারা প্রযোজক নিয়ে আসে পরিচালকের কাছে। হৈ হুল্লোড় করে হয় ছবির মহরত। সেই ছবির খবর নেই। নায়িকা- প্রযোজক নিয়ে ইন্ডাষ্ট্রিতে গল্প ছড়ায় নানা রংয়ের। সংস্কৃতি মাধ্যম হয় কলুষিত। এটা শুধু সিনেমার ক্ষেত্রেই না। নাটক কিংবা র‌্যাম্পের মডেলদেরও রয়েছে এমন প্রাপ্তি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকাই ছবির প্রথম সারির একজন নায়ক বলেন ‘আমার গাড়িটা কেনার সময় অর্ধেকের বেশি টাকা ঋণ করতে হয়েছিল। গাড়ী কেনার তিন বছর পর তা পরিশোধ করতে পেরেছি। সে গাড়ি এখন পাঁচ বছর পর খুব ভালো অবস্থায়ও নেই। লজ্জা করে যখন দেখি কোনো নায়িকা আমার চেয়ে অনেক কম ছবি করার পরও তাঁর গাড়িটা আমার তিন ডাবল দিয়ে কেনা হয়। এমনকি এক- দু ছবির নায়িকাদেরও রয়েছে গাড়ি। হয়তো তাদের পারিবারিক সচ্ছলতা রয়েছে এতটা।’

বন্ধুদের জন্য শেয়ার করে দিন

About Dhaka News Time

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।